ওহী আলম
‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে মিশে গেছে’— গিটারের টুংটাং শব্দে মুখরিত নীলদিঘির পাড়। কার গানের গলা ভাল আন্দাজ করা বেশ মুশকিল! সবাই ব্যস্ত খুব। অক্টেন বাবা ফারহান অক্টেন দিয়ে আগুন জ্বালাতে খুব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্ক আর কামরুল বেশ মনোযোগ দিয়ে দাবা খেলায় মগ্ন। একপাশে লুডু খেলোয়াড়রাও বেশ জমিয়ে তুলেছে। আরো ছিলেন ফটোগ্রাফার সাহেব শুভ্র। দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে নানা আঙ্গিকে যিনি অনবরত ছবি তুলে গেছেন। বলছিলাম নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সাইন্স বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের (বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চড়ুইভাতির কথা। হলের একদল তরুণীর সহযোগিতায় জোগাড়যন্ত্র শুরু হয় ভোর থেকেই। ৩০-৪০ মানুষের জন্য কয়েক পদের রান্না করা তো সহজ কাজ নয়। মলি, মালিহা, প্রিয়ার দায়িত্বে ছিল ভর্তা, আচার তৈরির। আর খিচুড়ি-মুরগি রান্নার আয়োজন চলছিল পদ্মপুকুর পাড়ে। ফাঁকে ফাঁকে চলছিল খণ্ড খণ্ড আড্ডা আর সাজ-সজ্জার কাজ। সেলফি কুইন খ্যাত রিদিতা একটু পর পর ছবি তোলায় ছিল বেশ ব্যস্ত।
সূর্য মাথার উপর উঠতেই সবাই চলে আসে নীলদিঘির পাড়ে। চড়ুইভাতি মানেই অন্য রকম কিছু। খাবারের চাইতে আনন্দটাই এখানে মুখ্য যে। দু’চামচ বেগুন ভর্তা, একটু আচার ও এক চামচ টমেটো ভর্তা সাথে খিচুড়ি আর মুরগির ঝাল ফ্রাই। সাথে এক টুকরা লেবু! প্লেটে প্লেটে সাজিয়ে চলছিল পরিবেশন। তৃপ্তির ঢেকুর তোলা অনেকেই আবার প্লেটটা একটু বাড়িয়ে দিচ্ছিল, আরেকটু আচার আর খিচুড়ি হবে কিনা সে আশায়। বেচারি সুমাইয়া! অনেক পাহারা দিয়েও লেগপিস হাসিল করতে পারেনি সে।
উত্সব জুড়ে দেখা মেলে বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত এবং চমত্কার রকম আড্ডাপ্রিয় একদল শিক্ষকের। ছিল সতিনের ছেলে কার কোলে বিচিত্র নামের সব খেলার। বিজয়ী খেলোয়াড়ের জন্য ছিল পুরস্কারও। খেলায় বিজয়ী শিক্ষক রাহানুর আলম শোভন বলেন, ‘এমন আয়োজন তো প্রত্যেক সেমিস্টারেই হওয়া উচিত্। এতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক।’ আড্ডা, গান, কবিতা, গল্পে মুখরিত সময়টা যেন চড়ুই পাখির মতো ফুরত্ করে উড়ে চলে গেলো! শৈশবের স্মৃতি মোড়ানো হরেক রকম খেলা, প্রাণখুলে আড্ডা, গলা ছেড়ে গান, গুচ্ছ গুচ্ছ গল্প, চমত্কার সব রান্না। নীলদিঘির পাড়ের দুপুরটা অসাধারণ, অনবদ্য, রোমাঞ্চকর। জীবন এখানে বেশ রঙিন।