নেত্রকোনার শহরের নিউটাউন পঁচাপুকুর (অনন্ত পুকুর) পাড়ে শিশু সজীব (৮) হত্যা ও শিশু হত্যাকারী রবিন (৩০) হত্যার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার এ ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, নেত্রকোনা থানায় শিশু সজীবের পিতা রইস উদ্দিন বাদী হয়ে পুত্র হত্যার জন্য মামলা করেছেন।
অপর দিকে নেত্রকোনা থানার এস আই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিশু হত্যাকারী রবিন হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে পুলিশ নিহত শিশু সজীবের মস্তকবিহীন লাশটি শহরের কাটলী গ্রামের কায়কোবাদের নির্মানাধীন তিনতলার টয়লেট থেকে উদ্ধার করেছে বলেও তিনি জানান।
শুক্রবার বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের অফিসে পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, শিশু সজীব হত্যার ঘটনাটিকে ছেলে ধরা এবং পদ্মা সেতুর গুজবের সঙ্গে মিশিয়ে যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের ডিজিটাল আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যার মোটিভ খোঁজা হচ্ছে। রবিনকে হত্যা করলে এবং তাকে জীবিত ধরতে পারলে অনেক ঘটনাই জানা যেত বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, শিশুটিকে অপহরণ করে কাটলী গ্রামের কায়কোবাদের তিনতলার টয়লেটে হত্যা করা হয়। পরে দেহ থেকে মাথা কেটে রবিন কাটা মাথা নিয়ে চকপাড়া মদের দোকনে গিয়ে মদ পান করে। এরপর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার ব্যাগ থেকে মস্তকটি পড়ে গেলে লোকজন দেখে ফেলে এবং রবিনকে পিটিয়ে হত্যা করে। পুলিশ সুপার বলেন, রবিনকে পিটিয়ে মারা ঠিক হয় নাই। তবে রবিন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপর। গুজবে যাতে কেউ কান না দেয় সে ব্যাপারেও পুলিশ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপান এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান মিয়া, অতিলিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল এবং নেত্রকোনা থানার ওসি তাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: মির্জাপুরে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
উল্লেখ্য, শুক্রবারের ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় এ সংক্রান্ত প্রাথমিক খবর প্রকাশিত হয়।
ইত্তেফাক/নূহু