পশ্চিম তীরে ৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত

ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনারা জোরপূর্বক উচ্ছেদ কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে। অঞ্চলটির তুলকারেম এবং নূর শামস শরণার্থী শিবির থেকে ৪ হাজারের বেশি পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।

তুলকারেম মিডিয়া কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এই অঞ্চলে তার সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে প্রায় ৩০০০ বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই ধংসযজ্ঞ তুলকারেমে ৬২ দিন ধরে এবং নূর শামস-এ ৪৯ দিন ধরে চলছে। মিডিয়া কমিটি জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে এলাকা দুটিতে ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন।

এদিকে, ফিলিস্তিনের আরেক অঞ্চল গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি আগ্রাসন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে, যা অনেকটা পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধের মতো। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, এখানকার হাসপাতালের উপরেও অবিরাম ড্রোন উড়ছে।

আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদন বলছে, শুজাইয়া পাড়ায় খাবারের জন্য জড়ো হওয়া একটি কমিউনিটির রান্নাঘরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। এখন পর্যন্ত সেখানে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দক্ষিণ খান ইউনিসে একটি ইসরায়েলি ড্রোন পশু টানা গাড়িতে বিমান হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হয়। পরে আরেকজন নিহতের খবর আসে। শহরের পূর্বে একটি তাঁবুতে আরেকটি হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং একজন নারী রয়েছেন।

অস্কারজয়ী ছবি 'নো আদার ল্যান্ড'-এর সহ-পরিচালক বাসেল আদ্রা বলেন, শুক্রবারের বসতি স্থাপনকারীদের হামলার দৃশ্য ধারণের জন্য ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভেঙে ফেলেছে। ফুটেজের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি কিশোর এবং তার বাবার গুরুতর আহত হওয়ার দৃশ্য ছিল।