পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শাহ্ সোলাইমান (র.) ওরফে লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মতলব উত্তর উপজেলার কালীপুর-চর কালীপুর ট্রলারঘাটে যাত্রীর ব্যাপক সমাগম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রলারে করে এই নদী পার হতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। এতটুকু দূরত্বের মধ্যেই প্রতি বছরই ঈদ অথবা লেংটার মেলায় সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে এবারও ডাকাতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য নৌপথে ট্রলারযোগে এ পথে ধনাগোদা নদী পার হয়ে কালীপুর-কালীপুরা যায়। প্রতিদিন এই রুটে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলারের মাধ্যমে কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার দিনে রাতে ৩-৪ হাজার যাত্রী এ পথে পারাপার হয় থাকে। ঈদে যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭-৮ হাজারের মতো। কিন্তু এবার ঈদ ও লেংটার মেলা একসঙ্গে হওয়ায় দৈনিক ১০-১২ হাজার যাত্রীর পারাপার থেকে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নৌঘাট-সংশ্লিষ্টরা। আর এই সময়টাতে ছোট্ট নদীতে ডাকাতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এ সময়ে ধনাগোদা নদীতে অতিরিক্ত টহলের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ইকবাল হোসাইন নামে মতলব উত্তর উপজেলার একলাশপুর এলাকার এক যাত্রী জানান, আমি মতলব উত্তর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই পথে নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরতে রাত যায়। আমাদের ট্রলার যখন মাঝ নদীতে তখন ট্রলারটিকে কেন্দ্র করে দুই দিক থেকে কয়েকটি লেজার লাইট মেরেছিল। আমিসহ আমরা ১১ জন যাত্রী ছিলাম ঐ ট্রলারে। সবাই ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।
আরেক যাত্রী আলী হোসেন বলেন, আমি একবার এই পথে বাড়িতে আসার সময় ডাকাতির কবলে পড়েছিলাম। এখন রাতে আমি যাতায়াত করি না।
মতলব উত্তর উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু জানান, এই পথে কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় আমার কাছে যা ছিল ডাকাতরা লুটে নেয়।
নাম প্রকাশে না করা শর্তে ট্রলারের কয়েকজন চালক জানায়, ডাকাতরা যখন আক্রমণ করে, তারা দুই দিক থেকে আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাত্রীদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কেউ মালামাল দিতে না চাইলে মারধর করে। এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ঈদের পাঁচ দিন আগে এবং পরে নদী প্রত্যেকটি পয়েন্টে নৌ-পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করা হবে।