বকশীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির ব্যপক অবনতি হয়েছে। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের বন্যা স্মরণকালের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বকশীগঞ্জ পৌর শহরসহ রুরচর, সাধুরপাড়া, বগারচর, ধানুয়া কামালপুর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু ও শিশুদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় এবং বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও শুকনা খাবারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বানভাসি মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তাই বাধ্য হয়ে উঁচু সড়কে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নিয়েছে হাজারো বানভাসি পরিবার।
জায়গা না থাকায় পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশু মিনহাজকে (৪) পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলায় নিয়ে দাফন করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। বাট্টাজোড় নতুন বাজারে অবস্থিত কোহিনুর এমদাদ এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড এর বিভিন্ন মেশিনপত্র, কাচাঁমাল, খাদ্য সামগ্রী পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ এমদাদুল হক এমদাদ।
শুক্রবার সকালে পানিতে ডুবে আবু বক্কর নামে (৭০) এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হওয়া সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বটতলা এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে মাজ্জাদ (১২) মিয়ার মরদেহ শুক্রবার বিকালে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলায় গত ৭২ ঘন্টায় পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় গড়াই নদী থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বন্যার্তকবলিত এলাকায় বরাদ্দ অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ অব্যহত আছে।
ইত্তেফাক/নূহু