বগুড়ার শেরপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো চারজন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও তার চার বছরের শিশুকন্যা রয়েছে।
সোমবার (৩১মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আজিজুল হক এসব দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, শরিফুল ইসলাম (৩২) ও তার মেয়ে সেজদা খাতুন (৪), অলোক সরকার (২০)। এদের মধ্যে শরিফুল ও সেজদা সম্পর্কে বাবা-মেয়ে।
আহতরা হলেন, জয়ন্ত সরকার (২০) ও শুভ সরকার (১৯), মো. লিখন (২৮) ও মো. জীবন (৩০)।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন সোমবার বেলা সোয়া ২টার দিকে উপজেলার মহিপুর জামতলা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ওই মোটরসাইকেলের আরোহী ওই এলাকার শরিফুল ইসলাম (৩২) ও তার মেয়ে সেজদা খাতুন (৪) গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ওই বাবা-মেয়েকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে দিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের ঝুপুনিয়া সেতুর মোড়ে দুর্ঘটনায় অলোক সরকার নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন জয়ন্ত সরকার (২০) ও শুভ সরকার (১৯) নামের আরও দুই তরুণ। দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতরা সম্পর্কে বন্ধু।
স্থানীয়রা জানান, একটি মোটরসাইকেলে একই ইউনিয়নের হিন্দু পানিসাড়া গ্রামের অলোক সরকারসহ তিন বন্ধু বেড়াতে যাচ্ছিলেন সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে। ঝুপুনিয়া সেতুর মোড়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গুরুতর আহত হন তিন আরোহী। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অলোক সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শুভ ও জয়ন্ত সরকারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মহিপুরের ফায়ার সার্ভিসের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. লিখন (২৮) ও মো. জীবন (৩০)।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়াগামী লেন থেকে একটি প্রাইভেট কার ঢাকাগামী লেনে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকাগামী আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আজিজুল হক বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।