বসন্তের শেষ মাস চৈত্র। আর এ মাসেই শীতের প্রভাব কমে গরম পড়তে শুরু করে। আভাস দেয় গ্রীষ্মের আগমনের। তবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এখনো ভোরের আকাশ ঢাকা থাকে ঘন কুয়াশায়। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছিল ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া।
ভোর ৫ টা থেকে সকাল সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত কুয়াশার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অল্প দূরত্বের বস্তু দেখতেও কষ্ট হচ্ছিল। উপজেলার মাদিলাহাট, বারাই, আমডুঙ্গি, লক্ষীপুর, মেলাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেছে। চৈত্র মাসে সাধারণত এমন আবহাওয়া চোখে পড়ে না সাধারণত।
বছরের এই সময়ে যখন রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড গরম পড়ে, তখন দিনাজপুরে কুয়াশা ও শীতল বাতাস অনেকের জন্যই বিস্ময়ের বিষয়।
কৃষি অফিস বলছে, দিনাজপুর থেকে হিমালয় কাছাকাছি হওয়ায় এখানে দীর্ঘ সময় ধরে শীতের আবহ বিরাজ করে। এবারও সেই প্রবণতায় বজায় রয়েছে। যদিও উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, তবে, দিনাজপুরে এখনো শীতের অনুভূতি স্পষ্ট।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সাধারণত এ সময়ে আমের মুকুল ও ফসলের গাছগুলোতে গরম আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে। তবে চলমান কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া কিছুটা হলেও ফসলের জন্য ভালো হতে পারে। যদিও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় বাসিন্দা এসএম নূরুজ্জামান বলেন, এ সময়টাতে আমরা গরমের জন্য প্রস্তুত থাকি, তবে এবার এখনো কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সকালে সরকারি কলেজ মাঠে খেলাধুলা করতে গেলেও দুইদিন থেকে খেলার মাঠ ও রাস্তাঘাট কুয়াশাচ্ছন্ন থাকছে। সকালে বের হলে গায়ে চাদর জড়াতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান বলেন, সকালে যেই কুয়াশা পড়ছে সেটা সচরাচর দেখা যায় না। বরং এটা আবহাওয়ার একটি ব্যতিক্রম রূপ।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০ টা পর্যন্ত সেখনাকার তাপমাত্রা আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়নি।