ছোট যমুনায় চলছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঝিনুক কুড়ানোর প্রতিযোগিতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর উপর দিয়ে বয়ে চলা ছোট যমুনা নদীতে চলছে ঝিনুক কুড়ানোর প্রতিযোগিতা। এই ঝিনুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। 

উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর সূর্য্যপাড়ায় বসবাসরত এসব পরিবারের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। তবে চাষের মৌসুম শেষে পুরুষ ও নারীরা দল বেঁধে নদীতে নেমে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। তারা ঝিনুকের খোলসের ভেতরের নরম অংশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণের পাশাপাশি শক্ত খোলস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।  

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়,  তারেক রহমান সেতুর নিচে একদল নারী - পুরুষ ঝিনুক কুড়াতে ব্যস্ত। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বা সুদেবপুর সূর্য্যপাড়ার বাসিন্দা। এই ঝিনুক সংগ্রহ করে তারা নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এগুলো বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন। 

ঝিনুক সংগ্রহকারী এডওয়ার্ড কিস্কু, রাজেন কিস্কু ও মানেস হেম্ব্রম জানান, নদী থেকে সংগ্রহ করা এই ঝিনুক বাড়ীর পাশে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখা হয়, তাতে ঝিনুকগুলো এক সপ্তাহ পর্যন্ত তাজা থাকে। এরপর ঝিনুকের খোলসের ভেতরের নরম অংশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়, আর  অবশিষ্ট শক্ত খোলস ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। ক্রেতারা বাড়ী বাড়ী এসে এই ঝিনুকের খোলস কিনে নিয়ে যান। এতে মোটামুটি ভালো আয় হয়।

ঝিনুক সংগ্রহে নারীদেরও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায় বেশ। সজিনা সরেন ও লিমা মুর্মু জানান, পরিবারের খাদ্যের সংস্থান ও অতিরিক্ত আয়ের জন্য তারা নদীতে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। এতে গড়ে প্রতিদিন ৬৫০-৭০০ টাকা আয় হয় তাদের।

ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ঝিনুক খোলস ক্রেতা  নেপাল দেবনাথ ও সম্বারু দেবনাথ জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে  তারা ৩৫০-৪০০ টাকা মণ দরে ঝিনুকের খোলস কেনে। পরে তা চুনে রূপান্তর করে বাজারে বিক্রি করে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা ঝিনুক সংগ্রহ করে নিজেদের খাদ্য জোগানের পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের সুযোগও পাচ্ছেন। কৃষি শ্রমের পাশাপাশি ঝিনুক সংগ্রহ তাদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।