ফের আল-আকসা প্রাঙ্গণে উগ্র-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী, আরব বিশ্বের নিন্দা

জেরুজালেমের পুরাতন শহরের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বুধবার (২ এপ্রিল) ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সফরের নিন্দা জানিয়েছে আরব বিশ্ব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো।

এই প্রাঙ্গণটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। তবে এটি ইহুদি ধর্মেরও পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত, যা ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের ধ্বংস করে দেওয়া 'প্রাচীন মন্দিরের' স্থান হিসাবে পরিচিত।

১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেম এবং পুরাতন শহর দখলে রাখা ইসরায়েল সেখানে স্থিতাবস্থা জারি রেখেছে। সেখানে ইহুদি এবং অন্যান্য অমুসলিমদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে, তবে তাদের সেখানে প্রার্থনা বা ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি নেই।

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটির তত্ত্বাবধায়ক জর্ডান বেন-গভিরের এই ভ্রমণকে 'ঝড়ো হানাহানি" এবং 'একটি অগ্রহণযোগ্য উস্কানি' বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দখলদার পুলিশদের সুরক্ষার মধ্যে ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর আল-আকসা মসজিদে 'হানা' দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানায় সৌদি আরব। এটিকে মন্ত্রণালয় 'আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতার ওপর হামলা' বলে বর্ণনা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিংডম আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এই চলমান ইসরায়েলি লঙ্ঘনের নিন্দা জানায় এবং জেরুজালেম এবং এর পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে - এমন যে কোনো কিছুকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

২০২২ সালের শেষের দিকে কট্টর ইহুদিবাদি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকে বেন গভির কমপক্ষে ৮ বার এই পবিত্র প্রাঙ্গণটি পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবারই আন্তর্জাতিকভাবে এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।

তুরস্কও বেন গভিরের সফরের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি সরকারের একজন সদস্যের অভিযানের নিন্দা জানাই। নেতানিয়াহুর সহযোগীদের এই পদক্ষেপ একটি বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত, যা আবারও এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্তণালয়ও বেন গভিরের 'ইসরায়েলি পুলিশের সুরক্ষায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদে হানা দেওয়ার পূর্ণ নিন্দা' জানিয়েছে।

হামাস এটিকে 'উস্কানিমূলক এবং বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি' বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, এই সফর 'আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার অংশ'।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণ এবং পশ্চিম তীরের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা আমাদের ভূমি এবং আমাদের পবিত্র স্থান, বিশেষ করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের প্রতিরক্ষায় তাদের ভূমিকা আরও তীব্র করে তুলুক।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিবাদে বেন গভির গত জানুয়ারিতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর সম্প্রতি ফের সরকারে ফিরে আসেন তিনি। এরপর এই উগ্র রাজনীতিবিদ পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র স্থানটিতে গিয়ে বক্তব্য দেন।