ব্যর্থতার জবাব চাইবে কে 

এশিয়ান কাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বে বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোল শূন্য লড়াই ম্যাচে অনেক সন্তুষ্ট বাফুফে। ম্যাচ ড্র হওয়ায় তারা যারপরনাই খুশি। অথচ এ ধরনের ড্র আগেও বহুবার হয়েছে। নতুন কিছু না। ইংলিশ লিগে খেলা শেফিল্ড ইউনাইটেডের ফুটবলার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলেছেন, এটাই ভারত বাংলাদেশ ম্যাচের আলাদা রং ছড়িয়েছে।

হামজা চৌধুরীর অংশটা বাদ দিলে ম্যাচের বাকি ১০ ফুটবলারের ভূমিকা কী। তারা কে কতটুকু অবদান রেখেছেন। হামজার মতো প্রতিভাবান ফুটবলারকে পাশে পেয়ে অন্যান্য ফুটবলার কি নিজেদের আলোকিত করতে পেরেছেন? না। অথচ গত ৩০ বছরেও এমন ভারতকে পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চার পাঁচটা সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। গোলের সুযোগ। নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করেছেন আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। হামজা একা কত খেলবেন। ফুটবল খেলা তো একা খেলা যায় না। 

একে তো চোটের কারণে ভারতের চার জন ভালো ফুটবলার ছিলেন না। তার ওপর ভারতের গোলক্ষরক, ডিফেন্ডার নানা ভুল করে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের পায়ে বল তুলে দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি। নিজেরাও সুযোগ তৈরি করেছিলেন, সেটিও কাজে লাগাতে পারেননি। 

ম্যাচ ড্র নিয়েই উচ্ছ্বাস ফুটবলারদের, বাফুফের কর্তাদের। ভুলে গেছে, ২০১৯ সালে ১৫ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিপক্ষে গোল করে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে হার বাঁচিয়েছিল ভারত, ১-১ ড্র হয়েছিল। শিলংয়ে গত ২৫ মার্চের ম্যাচে বাংলাদেশ গোলও করতে পারেনি। তার পরও ড্র হওয়ায় সুযোগ আছে বল আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন বাফুফের কর্মকর্তারা, সুযোগ কি শুধুই বাংলাদেশের, সমানভাবে ভারতেরও আছে, সিংগাপুরের আছে এবং হংকংয়েরও সুযোগ রয়েছে। সবার জন্যই 
সমান। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটা যদি ১-১ গোলেও ড্র হতো সেই ড্রটা বেশি কাজে আসতো। 

বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার মতো সুযোগ পেয়েছিল। কিছু পরিকল্পনা না করার কারণে অনেক বড় সুযোগ জলাঞ্জলি দিয়ে এসেছে শিলংয়ের জওহরলাল স্পোর্টস কমপ্লেকসের মাঠে। 
ভারতের ১২৬ র‍্যাংকিং হলেও দেখতে হবে দলের হয়ে কারা খেলছে, তাদের মান কেমন। নাম এবং ধার কতটুকু। ভারতীয় ফুটবলারদের ব্যক্তিগত কোয়ালিটি কেমন। বর্তমান ভারত কোন দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল, সেটি নিয়ে কোচ এবং কোচিং স্টাফরা কি বিশ্লেষণ করেছেন? খেলা দেখে মনে হয়নি। প্রথমার্ধে একের পর এক গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধে সংকুচিত হয়ে রক্ষণে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের চাপে ভেঙে পড়ছিল। সেখানেও হামজা চৌধুরীর পাশে গোলরক্ষক মিতুল মারমা লড়াই করেছেন। খেলা দেখে মনে হয়েছিল ড্র করতে নেমেছিল বাংলাদেশ।
 
খেলা ড্র হওয়ায় ভারত ছিল মনমরা। প্রায় ১৪ হাজার দর্শকের সামনে ভারতীয় ফুটবলাররা মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছেন। অন্যদিকে তখন ড্রয়ের আনন্দে সেলিব্রেশন করেছেন বাংলাদেশের অনেক ফুটবলার। কেউ সেলফি তুলছিলেন। কেউ দৌড়ে গিয়ে ভারতের ফুটবলারদের কাছ থেকে জার্সি চেয়ে বিনিময় করেছেন। জিততে না পারার আক্ষেপ দেখা গেল না। বাফুফের শীর্ষ কর্তারাই যদি ড্রয়ে খুশি থাকেন, তাহলে ফুটবলাররা কী করবেন। তাদের কাছ থেকে ব্যর্থতার জবাব চাইবে কে। কোচের কাছে জবাব চাইবে কে। আগামী নভেম্বরে ফিরতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে আসবে ভারত। নিশ্চই পূর্ণ শক্তি নিয়ে আসবে। সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেই ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় আসবে ভারত। বাংলাদেশ কী শিলং ম্যাচের সেই সুযোগ পাবে। কখনোই না।