পাকিস্তানে চলমান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে থাইল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে মূল পর্বের যাওয়ার জন্য সহজ পথ বানিয়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত হয়ে যেত ভারতের টিকিট।
তবে তা হয়নি জ্যোতিরা হয়েছেন ব্যর্থ, হেরেছেন ৩ উইকেটের ব্যবধানে। তাতে টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে কঠিন সমীকরণ মাথায় নিয়ে আজ লাহোরের সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা। এই ম্যাচে জয় পেলেই আইসিসি নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। তাতে মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। তবে হারলেও টিকে থাকবে আশা, সেক্ষেত্রে অন্য ম্যাচের ফল ও রানরেটের ওপর নির্ভর করতে হবে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছে ৬টি দল। তাদের মধ্যে ২ দল যাবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। এরই মধ্যে ৪ ম্যাচে টানা ৪ জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট বাকি আছে তাই মাত্র একটি। যেটির জন্য বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়ছে। যদিও কাগজে কলমে এগিয়ে রয়েছে জ্যোতিরাই। ৪ ম্যাচে বাংলাদেশের ৬ পয়েন্ট, তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে।
তার পরেই আছে স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ বাংলাদেশ জিতলেই সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে, এই টুর্নামেন্টে থেকে দ্বিতীয় দল হিসিবে নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের টিকিট। তবে হেরে গেলে রান রেটের হিসেব কষতে হবে জ্যোতিদের। চলমান টুর্নামেন্টে স্বাগতিক পাকিস্তান দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও এই ফরম্যাটে সবশেষ কয়েক দেখার হিসেবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশই। এই দুই দল সবশেষ দ্বিপাক্ষীক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৩ সালে।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া তিন ম্যাচের ঐ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে দাপট দেখিয়েই জিতেছিল জ্যোতিরা। এছাড়া গেল ১০ ম্যাচের হিসেবেও জয়ের পাল্লা ভারী টাইগ্রেসদেরই, জিতেছে ৬ ম্যাচ হেরেছে চারটিতে। ঐ সাফল্যই গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টেনে আনতে চাইবেন জ্যোতি, পিংকি, সুপ্তারা। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ভুলে গিয়ে প্রথম তিন ম্যাচের জয়ের ছন্দও এই ম্যাচে ফিরেয়ে আনার লক্ষ্য লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
এ নিয়ে অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে প্রথম তিন ম্যাচে ভালো খেলেছি, সেই ধারাবাহিকতাই শেষ ম্যাচে (পাকিস্তানের বিপক্ষে) টানতে চাইবো অবশ্যই। তার আগে আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। তবে এটা একটা দিন, মানসিকভাবে আমরা চাইলেও অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারব না। তবে আমরা যা করতে পারব সেটা হলো মাঠে শক্তিশালী রূপে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারি পাশাপাশি নিজেদের ওপর ভরসা রাখতে হবে যে আমরা শেষ কয়েক ম্যাচে যা করেছি এই ম্যাচেও সেটা করতে পারব।’
টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলেও জ্যোতির হতাশার কারণ ছিল বোলিং ও ফিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট নিয়ে। চেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে সেটা কাটিয়ে উঠতে। তবে পারেননি। যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেও এই দুই ডিপার্টমেন্ট ভাবাচ্ছে জ্যোতিদের। বলেন, ‘আমাদের ভালো ব্যাটিং করতে হবে, স্কোরবোর্ডে আরো বেশি রান তুলতে হবে। কারণ এই ধরনের উইকেটে রান পাওয়া তুলনামূলক সহজ। না হলে প্রতিপক্ষকে আটকানো কষ্টকর।
এছাড়া শেষ ম্যাচে আমাদের ফিল্ডিংয়ে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে, বোলারদের সঠিক জায়গায় বোলিং করতে হবে আর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নিতে হবে। যা আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিতে ব্যর্থ হয়েছি।’