হামীম রায়হান
সেদিন মোস্তফা শপিং করবে বলে তার স্ত্রীকে নিয়ে মার্কেটে গেল। মোস্তফার একটু কিপটে বলে খ্যাতি থাকলেও বউয়ের কাছে তা চলে না। সামনের মাসে শালির বিয়ে, তাই বউ বায়না ধরেছে তার নতুন শাড়ি চাই। এক প্রকার বাধ্য হয়ে মোস্তফার শপিং যাত্রা! কোনোভাবেই পার পাওয়ার উপায় নেই। শনিবার বিকালে স্ত্রীসহ গেল শহরের একা বড় দোকানে। দুজন বসে কাপড় দেখছে। বউ একটা শাড়ি পছন্দ করল। বিক্রেতা দাম হাঁকল পাঁচ হাজার টাকা! বউ ফিরে তাকাল মোস্তফার দিকে। মোস্তফা হেসে বলল, ‘প্যাকেট করো।’
এরপর বউ আরো দুটা শাড়ি পছন্দ করল। মোট দশ হাজার টাকার শাড়ি! মোস্তফা কোনো প্রতিবাদ করল না! টাকা দিয়ে চলে এল। কোনো দরাদরি হলো না। বিষয়টা বউয়ের বেশ খটকা লাগল। মোস্তফার এমন আচরণ বেশ অবাক করল বউকে! যে লোক এক শ টাকা খরচ করার আগে দশবার ভাবে, সে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই এত টাকার শাড়ি কিনে দিল! এতে নিশ্চয় কোনো রহস্য আছে!
পরদিন মোস্তফার বউ শহরের ওই দোকানে গিয়ে হাজির। গিয়ে তো অবাক! আরে এ তো রুহুল ভাইয়ের দোকান। রুহুল ভাই মোস্তফার জিগরি দোস্ত। ভাবিকে দেখে রুহুল ঘেমে একাকার! সবকিছু স্বীকার করে নেওয়াই ভালো ভেবে রুহুল বলল, ‘সেদিন আপনারা আসার কিছুক্ষণ আগে আমাকে মোস্তফা ফোন করল। বলল, আমি যেন দোকান থেকে বেরিয়ে যাই, কারণ আপনারা আসছেন। আর জানায় আপনি শাড়ি কিনবেন। তাই কোনো দামি শাড়ি দেখানো যাবে না। দামি বলে সস্তা শাড়ি দেখাতে বলল। যত শাড়ি কিনুক দাম যেন সব মিলিয়ে পাঁচ হাজারের উপরে কোনোভাবেই না যায়। আমার কোনো দোষ ছিল না। মোস্তফা যেমন বলেছে, আমি তেমনই করেছি মাত্র।’
‘বাকি পাঁচ হাজার টাকা কোথায়?’
‘আজ অফিস শেষে নিয়ে যাবে বলেছে।’
‘সে টাকাগুলো আমাকেই দিন। আর আপনার বন্ধুকে বলবেন আজ রাতে যেন বাসায় না ফিরে। ফিরলে খবর আছে! ঘুঘু দেখেছে, ফাঁদ দেখেনি!’