g সত্যজিত্ বিশ্বাস
আতঙ্কের নাম চিকুনগুনিয়া
গিন্নি :সবাই চিকুনগুনিয়ার ভয়ে কাঁপছে। এই চিকুনগুনিয়া কী গো?
কর্তা :এক জ্বলজ্যান্ত আতঙ্ক! এর আক্রমণে মাথা ব্যথা করে, মাংসপেশিতে ব্যথা করে, হাড়ের জোড়াগুলোতে ব্যথা করে, অসহ্য লাগে সারাদিন।
গিন্নী :এ জীবনে আমাকে আর কত অপমান করবে? আমি চিকুনগুনিয়া?
এইচএসসির রেজাল্ট ভালোর মন্ত্র
মিন্টু :বাবা, আপনি বলেছিলেন পরীক্ষার রেজাল্ট খুব ভালো হবে।
জ্যোতিষ বাবা :তো, কী হয়েছে? রেজাল্ট কি দিয়ে দিয়েছে?
মিন্টু :না, তা না। তবে খুব তাড়াতাড়ি দিয়ে দেবে। ভয় করছে তো, তাই এলাম।
জ্যোতিষ বাবা (বিড়বিড় করে) :এই রে, আস্তানা পাল্টানোর সময় দেখি হয়ে এল।
মিন্টু :বিড়বিড় করে কী বললেন বাবা?
জ্যোতিষ বাবা :পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করার মন্ত্র পড়ে দিলাম, যা এবার।
অফিস টাইম
অফিস কর্মচারী :স্যার, অফিসে প্রচুর মশা। অফিস টাইমটা পাল্টে দিন।
বস :মশার জন্য অফিস টাইম পাল্টে দেব?
অফিস কর্মচারী :জি স্যার। অফিস রাতে হোক, দিনে ছুটি।
বস :মাথা কী ঠিক আছে? কী বলেন এসব, বোঝেন?
অফিস কর্মচারী :বুঝি বলেই তো বলছি। ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া হলে আপনিও বুঝবেন।
কোন গোপন প্রেমিকার ভয়ে
প্রেমিকা :তাহলে ওই কথাই রইল, কাল দুপুরে দেখা হচ্ছে।
প্রেমিক :ইয়ে জান সোনা, একটা কথা বলি? বর্ষাকালে আমাদের ডেটিং শিডিউল চেঞ্জ করলে হয় না?
প্রেমিকা :শিডিউল চেঞ্জ মানে?
প্রেমিক :মানে বর্ষাকালে যদি আমরা দিনে দেখা না করে রাতে দেখা করি।
প্রেমিকা :যে গোপন প্রেমিকার ভয়ে দিনে দেখা করতে চাচ্ছ, বল তো তার নামটা শুনি?
প্রেমিক :ডেঙ্গু।
সমস্যা তো অন্যখানে
শিক্ষক :কীরে, ক্লাসে ছাত্রসংখ্যা এত কম কেন?
ক্লাস ক্যাপ্টেন :ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার ভয়ে অনেকে আসছে না, স্যার।
শিক্ষক :আরে ছাত্রদের বোঝা, মশার ভয়ে ঘরে লুকিয়ে বসে থাকলে হবে?
ক্লাস ক্যাপ্টেন :ছাত্রদের বোঝানো তো কোনো সমস্যা না স্যার।
শিক্ষক :তো, সমস্যা কোথায়?
ক্লাস ক্যাপ্টেন :এডিস মশাদের বোঝাবে কে?
মশক বাণী
মশা আর প্রেমিকদের মধ্যে অসম্ভব মিল। চান্স পেলে দুই প্রজাতিই ইন্ডিয়ান হিরো ইমরান হাশমী।
ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
ফেসবুকে উগান্ডা প্রবাসী এক লোকের স্ট্যাটাস—মনটা খুব খারাপ। এমন একজন বন্ধুর দেখা পেলাম না যে পিঠে হাত রেখে বলবে, পাশে আছি।
সেই স্ট্যাটাসে বাংলাদেশি বন্ধুর লাইকসহ কমেন্ট—ভেবো না বন্ধু, আর কেউ থাকুক আর নাই থাকুক লাইক + কমেন্ট দিয়ে সব সময় তোমার পাশেই আছি।
তাল
প্রথম বন্ধু :বল তো, কোন জিনিসটা খেতেও মজা, দিতেও মজা?
দ্বিতীয় বন্ধু :একটা সহজ ক্লু দে না।
প্রথম বন্ধু :আচ্ছা, যে জিনিসটা গানেও লাগে, বাজাতেও লাগে। এবার বল?
দ্বিতীয় বন্ধু :ধুর, এত তাল না করে বলে দিলেই তো পারিস।
এতদিন লাগল আসতে?
স্ত্রী :চাঁদের দিকে হা করে তাকিয়ে কী এত ভাবছ গো?
স্বামী :চাঁদে মানুষ যাত্রার ৫০ বছর পূর্ণ হয়ে গেল। ভাবছি, প্রথম যেদিন মানুষ চাঁদে নামল, সেদিন চাঁদ কী ভেবেছিল?
স্ত্রী :কী আর ভাববে? প্রথম যেদিন আমাকে দেখতে আসলে সেদিন আমি যা ভেবেছিলাম, চাঁদ নিশ্চয়ই তাই ভেবেছে।
স্বামী :কী সেটা?
স্ত্রী :এতদিন লাগল আসতে?
চাঁদ যখন দূর থেকেই দেখ
প্রেমিক :ওগো, তুমি কি জানো, তুমি আমার চাঁদ।
প্রেমিকা :তাই?
প্রেমিক :তাই গো তাই। তাই তো তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে খুব।
প্রেমিকা :আহারে, কী আর করবে বলো, দূর থেকেই দেখ।
প্রেমিক :কেন? দূর থেকে দেখব কেন?
প্রেমিকা :তুমিই না বললে, আমি চাঁদ। চাঁদ কী কখনো ছুঁয়ে দেখা যায়?
চিটাগাংবাসী
সাংবাদিক :একটু বেশি বৃষ্টি হলেই আমরা চিটাগাংবাসীরা জলাবদ্ধ হয়ে যাই। মূল সমস্যা কী বলবেন?
নেতা :মূল সমস্যা আমি বলব কী, আপনিই তো বলে দিলেন। আপনারা চিটাগাংবাসী।
সাংবাদিক :কেন, চিটাগাংবাসী হলে সমস্যা কী?
নেতা :গাং থাকলে পানি আসবে না?
ভালোবাসার মূল্য
এ জগতে সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আপনাকে? ভালোবাসার হিসাব কষার ফরমেট পাচ্ছেন না?
ঠিক আছে দিয়ে দিচ্ছি ফরমেট।
—আপনার এই হা-হুতাশ মার্কা নিরস জীবনে সবার সামনে সবচেয়ে বেশি চুমু খেয়েছে কে?
—কে তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে শুধু ভালোবাসার টানে আপনার কাছে ছুটে এসেছে?
—কে সেই লতা মঙ্গেশকর, যে শুধু আপনাকে গান শোনানোর জন্য নিশিরাতে দাওয়াত ছাড়াই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে?
—কে সেই পাগলু, যে কোনো রকম গ্রুপ টেস্ট ছাড়াই আপনার রক্ত তার নিজের শরীরে টেনে নেয়?
—কে সেই সুজন, আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও জড়িয়ে ধরে থাকতে তোয়াক্কা করে না?
—কে সেই ফ্লাইং মাস্টার, যে জানে আপনাকে ভালোবাসার চড়া মূল্য হিসেবে সুযোগ পেলেই আপনি, হ্যাঁ আপনিই তাকে খুন করবেন?
মশার স্প্রে অথবা বৈদ্যুতিক ব্যাট কিংবা রক্তাক্ত হাতের দিকে তাকিয়ে বলুন তো, এভাবেই বুঝি ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হয়?
আমার মামা সব জানে
মামা :আচ্ছা বল তো দুনিয়া এখন কয়টা?
ভাগ্নে :এটা আবার কেমন কথা, মামা? তখন আর এখন কী? দুনিয়া তো একটাই।
মামা :পারলি না তো? দুনিয়া এখন দুইটা। একটা হলো বাস্তবের দুনিয়া, আরেকটা হলো ফেসবুক দুনিয়া।
সুখ না শান্তি?
শিষ্য :আচ্ছা গুরুদেব, সুখ না শান্তি—কোনটা কাম্য?
গুরুদেব :এটা নির্ভর করে বউ কেমন, তার ওপর।
শিষ্য :তার মানে?
গুরুদেব :এই যেমন আমি গাছতলায়।
করণীয় কী?
কর্তা :বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি, কী করি বলো তো?
গিন্নি :কতদিন ধরেই তো বলছি, নিজের দামটা বাড়াও।
g কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন