‘হামার সউগ ভাসি গেলো বাহে’

সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলে ফেঁপে উঠে। নদীর চরে বসবাস করা সব বাসিন্দারাই পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকলেও ভাঙ্গনে হারিয়ে যায় ভিটে মাটি। 

চরের এক বাসিন্দা শহর আলী বলেন, 'সউগ ভাসি গেলো বাহে। হামার আর কিছুই থাকিল নে। খামোয় বা কি আর থাকমোয় বা কটে। কাইও হামার এ্যটে খোঁজ নিবার আসিল না'। কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর ঘুঘুমারী, সুখের বাতির চর, চর গেন্দার আলগা, উত্তর গেন্দার আলগা, নামাজের চরের শত শত ভিটেমাটি হারা মানুষের আহাজারী কেউ শুনতে পান না। 

উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৫টি চরে পানির তীব্র স্রোতে ও ভাঙ্গনে গত ৩ দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি। শনিবার সরেজমিনে গেন্দার আলগা চরে গিয়ে কথা হয়, কুদ্দুস মিয়া(৮০) এর সাথে। তিনি বলেন, 'পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীব্র স্রোত আর ভাঙ্গন শুরু হয়। আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু হলে মুহূর্তে ঘর-বাড়ি স্রোতে ভেসে যায়। কোন রকমে একটা ঘরের চাল রক্ষা করতে পারলেও সব কিছু চোখের সামনে নদীতে ডুবে যায়।' 

সুখেরবাতির চরের আব্দুল হাকি (৭৫) বলেন, 'কংক্রিটের সিড়ির উপর বানানো ৩টি টিনের ঘর চোখের পলকেই নদীতে ডুবে গেল। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।' একই কথা জানান, উত্তর গেন্দার আলগার আব্দুস ছালাম (২৫), ছোমেদ আলী (৫৫), সোনা মিয়া (৩২), চর গেন্দার আলগার আবু সাঈদ (৩৫), হামেদ আলী (৬২) সহ অনেকে। এসব চরের শত শত মানুষের ভিটেমাটি ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। পানির প্রবল স্রোতে চোখের সামনে নিমিষেই নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে এসব অসহায় মানুষের সহায় সম্বল।

বন্যা আর ভাঙ্গনে এসব পরিবার এখন সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এসব দুর্গতদের অভিযোগ, সরকারী পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা ও জন-প্রতিনিধি এখন পর্যন্ত এসব এলাকা পরিদর্শন করেননি। ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, 'আমার এলাকার মানুষের বাড়ি-ঘর নদীতে ভেসে যাচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছি না।' 

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল বলেন, 'গত ৩ দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘরসহ গাছপালা নদীতে ভেসে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার নিঃস্ব পরিবারগুলোর জন্য ৩ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। '

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, 'গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করে বন্যা পরবর্তী সময়ে ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।'  

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'ভাঙ্গলেও আমাদের কিছুই করার নেই।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি