সাক্ষাৎকার

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আইন করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে বলে মত দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব জাহিদ আহসান। শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। এছাড়াও সাক্ষাৎকারে নতুন ছাত্রসংগঠনের কর্মপরিধি, বিস্তৃতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানান বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।

বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে জাহিদ আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩৪ বছর জাকসু হয়নি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে সর্বশেষ ডাকসু হয়েছে। এমন চিত্র প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আবার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের কোনো আইনই নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই আইন তৈরি করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এই যে শিক্ষার্থীদেরকে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া, এটা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রবণতা। এখন নতুন বাংলাদেশে আমরা চাই প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং দেশের সামগ্রিক নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় তারা কাজ করবে।

অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দেশের ছাত্ররাজনীতির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছেন কি না জানতে চাইলে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক বলেন, জুলাই আগস্টের আগেও আমরা রাজনৈতিকভাবেই রাজনৈতিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে চেয়েছি। এখনো বিদ্যমান রাজনৈতিক সমস্যাগুলোকে রাজনীতির মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে চাই। সেজন্যই বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ এর যাত্রা শুরু। অভ্যুত্থানের আগে আমাদের শত্রু ও সমস্যা যেমন ছিল এখনো তাই আছে। আগে আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে দিল্লি এখানে সমস্যা সৃষ্টি করতে চাইত, এখন অন্য কারো কাঁধে ভর হতে চাচ্ছে। তবে আশার দিক হলো, দিল্লির হেজিমনি ঠেকাতে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। আমরা যেমন ছাত্ররাজনীতির স্বপ্ন দেখতাম সে সময় তা বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। কিন্তু এখন চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা সহজ হয়েছে।

নবগঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জাহিদ আহসান বলেন, স্বাধীনতার পর এ দেশে এখনো সুষ্ঠু ধারার কোনো ছাত্ররাজনীতি তৈরি হয়নি। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, শুধু একটা সিটের জন্য ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহিংসতায় লিপ্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ছাত্ররাজনীতির সবচেয়ে নগ্ন রূপ টা দেখেছি। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ছাত্রদের নেতৃত্ব ছাত্ররাই ঠিক করবে। আমরা এখানে কোনোভাবেই দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজির রাজনীতি চাই না। এর বাইরে গিয়ে আমরা রাজনীতি নির্মাণ করতে চাই। সাধারণ ছাত্রদের কাতারে থেকেই আমরা ছাত্রদের জন্য কাজ করতে চাই। নেতা মানেই যে বিলাসবহুল, গাড়ি, বাড়ি থাকবে আমরা সে ধারণার ছাত্ররাজনীতি চাই না। এছাড়া আমরা বাংলাদেশে তরুণদের নেতৃত্বকে সুসংহত করতে চাই। প্রবীণদের চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি আমরা ফেরত আনতে চাই না। তরুণরা জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। সেই সক্ষমতা কে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদকে অনেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন মনে করছে, এ বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এই ছাত্রনেতা বলেন, এনসিপির সঙ্গে আমাদের কোনোরূপ লেজুড়বৃত্তিক সম্পর্ক নেই। এনসিপি যেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আমরাও তেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। এনসিপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কিছুটা মতাদর্শিক, লেজুড়বৃত্তিক নয়। আমাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি ও পলিসি আমরা নিজেরাই তৈরি করি।