ইরেশ যাকেরের পক্ষে নীরবতা ভেঙে সোচ্চার বাঁধন

বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বেশ কিছুদিন নাটকে অনিয়মিত এই অভিনেত্রী কাঁপাচ্ছিলেন চলচ্চিত্রের মাঠ। গেল বছরের জুলাই আন্দোলনে একদম সামনের সারিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যেসব তারকারা সোচ্চার ছিলেন তাদের একজন বাঁধন।  

কিন্তু তারপর মাস কয়েক নিজেকে একেবারেই আড়ালে রেখেছিলেন বাঁধন, কিছুতেই দেখা মিলছিল না, সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছিল না কোনো আনাগোনা। তবে এবার নীরবতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে এসেছেন তিনি।

যদিও এই ফিরে আসার একটা কারণ রয়েছে। অভিনেতা ইরেশ যাকেরের পাশে দাঁড়াতেই তার এই প্রত্যাবর্তন। বাঁধন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ইরেশ যাকেরকে নিয়ে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর মিরপুরে গুলিতে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০৮ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায়, অভিনেতা ইরেশ জাকেরকে ১৫৭ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি করা হয়। যা নিয়ে এবার নীরবতা ভেঙেছেন বাঁধন।

স্ট্যাটাসে বাঁধন উল্লেখ করেন, ‘আমি এখন জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি সঙ্গে সঙ্গেই সব কিছুর প্রতিক্রিয়া দেখাই না। তবে কখনও কখনও নীরবতা যেন বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়।’

তিনি লিখেছেন, ‘ইরেশ সবসময় সত্যের পক্ষে থেকেছেন। ছাত্রদের সাঙ্গে, আমাদের সঙ্গে, প্রতিটি সংগ্রামের মুহূর্তে তিনি ছিলেন। ৪ আগস্ট, যখন কারফিউ ঘোষণা করা হয়, আমরা শাহবাগে একসঙ্গে ছিলাম। সব বিপদের মাঝেও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে আমি যেন নিরাপদে কালসী ফ্লাইওভারে পৌঁছাতে পারি — এমন এক সময়ে যখন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারত, তিনি বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন।’

৪ আগস্ট রাতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সেই রাতে, গণভবনে যাওয়ার জন্য আমাদের উপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। তবে ইরেশ যাকের দৃঢ়ভাবে না বলেছিলেন। তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রদের পাশে, সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। আজ যখন দেখি তাকে হয়রানি করা হচ্ছে, তখন হৃদয় ভেঙে যায়। যদিও এটা আমাদের জন্য নতুন নয়— আমরা আগেও দেখেছি যারা সাহস করে দাঁড়িয়েছে, তাদের এভাবে দমন করা হয়েছে। তবুও এখন, যখন আমরা ভেবেছিলাম আমরা একটি ভাল, নিরাপদ দেশ গড়ে তুলছি, তখন এটা আরও বেশি কষ্টের এবং হতাশাজনক।’

সবাই ইরেশের পাশে আছেন জানিয়ে বলেন, ‘যারা সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তাদের রক্ষা করা উচিত, নিপীড়ন নয়। আমরা ইরেশের পাশে আছি। আমরা তাদের পাশেই আছি, যারা কখনও আশা ছাড়েনি।’