খরায় পুড়ছে দেশ। সঙ্গে তপ্ত বাতাস। একটু পানির জন্য হাহাকার করছে মানুষ। স্বস্তি নেই সকল প্রাণীকুলে। এমন অবস্থায় নিজ অর্থায়নে সীমান্তবর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পানি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন আনছার সদস্য সাগর আলী।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল ৪-টার দিকে সাগর আলীকে আড়ানী পৌসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চকসিংগা মোড়ে বিভিন্ন বাড়িতে পানি সরবরাহ করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পূর্ব দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত সীমান্ত বর্তী চারঘাট-বাঘার পদ্মা নদী শুকিয়ে খা-খা করছে। অন্য শাখা নদী আড়ানী বড়াল এবং পদ্মার অপর একটি অংশ মুশিদপুর হয়ে ঈশ্বরদী যাওয়ার যে শাখা নদী সেটিও একেবারেই মৃত। বর্তমানে খাল-বিলসহ প্রায় নদীতে মাছের বদলে চাষ হচ্ছে ধান-গম-ভুট্টার মতো ফসল! একদিকে নদীতে পানি নেই, অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চল-সহ সমতল এলাকার প্রতিটি গ্রামে পানির স্তর ক্রমশই নিচে নামছে।
এর ফলে মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে পানির জন্য হাহাকার। আর এই হাহাকার প্রতিরোধে বিত্তবানরা গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি পেলেও অসচ্ছল ও গরিব দুঃখীরা পানির জন্য ছুটি যাচ্ছেন এলাকার বড় কোন পুকুর অথবা বিত্তবানর মানুষের বাড়িতে। এ অবস্থা লক্ষ্য করে নিজস্ব ভ্যান যোগে মানুষের বাড়ি-বাড়ি পানি পৌঁছে দিচ্ছেন আনসার সদস্য সাগর আলী ।
সাগর আলী বলেন, পানির অপর নাম জীবন। মানুষের জীবন বাঁচানো মহৎ কাজ, তাই নিজের সাথে আরও কয়েকজন আনসার সদস্যকে সাথে নিয়ে আমি নিজ অর্থায়নে এক সপ্তাহ যাবত আমাদের নিজ গ্রাম আড়ানী পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করে আসছি। আমার নিজস্ব ভ্যান আছে, এই ভ্যানের উপর এক হাজার লিটারের একটি ট্যাংকি পানি ভরে আমার সাথে কর্মরত কিছু আনসার সদস্যের সাথে নিয়ে বাড়ি-বাড়ি পানি সরবরাহ করছি। আমি প্রতিদিন তিন-চার হাজার লিটার পানি সরবরাহ করে থাকি।
এদিকে আনসার সদস্য সাগর আলীর এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অত্র এলাকার সু-শীল সমাজের লোকজন। তারা বলছেন , যে কাজটি সরকারী ভাবে হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজটি আনসার আলী নিজ উদ্যেগকে করছেন। এতে করে এলাকার সাধারণ গরিব-দু:খি মানুষ চরম ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তাঁরা এ কাজের জন্য আনসার সদস্য সাগর আলীকে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, অত্র অঞ্চলে অতিরিক্ত পুকুর খনন করায় প্রত্যেকেই গভীর নলকূপ বসিয়ে পুকুরে পানি ভরছেন। এর ফলে এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়া নর্মাল টিউবওয়েলে পানি উঠছেন। তবে যারা বাড়িতে গভীর নলকূপ হিসাবে জল মটার বসিয়েছেন তাদের পানি পেতে সমস্যা হচ্ছেনা। তিনি অত্র অঞ্চলে সরকারী ভাবে প্রত্যেক এলাকায় গভীর নলকূপ/মটোর বসানোসহ পানি সরবরাহের পরামর্শ দেন।