শ্রমজীবীদের গল্প নিয়ে কিছু সিনেমা

আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। যা মে দিবস নামেও পরিচিত। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ দিবসটি পালন করে থাকে। ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন। শ্রমিকদের গল্পে নির্মিত হওয়া কিছু সিনেমা নিয়ে আজকের আয়োজন।
 
শিমু-মেড ইন বাংলাদেশ (২০১৯)
 
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের সংগ্রাম ও অধিকারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। শিমু নামে এক গার্মেন্টস কর্মী সহকর্মীদের অধিকার আদায়ের জন্য একটি শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা করে। সমাজ ও পুঁজিবাদের বাধার মুখে দাঁড়িয়ে সে নিজের আত্মমর্যাদার জন্য লড়ে যায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন। ২০১৯ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমসাময়িক বিশ্ব সিনেমা বিভাগে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছিল। বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসব, লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবসহ সিনেমাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ সুনাম অর্জন করে। ‘শিমু-মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমাটি সেরা পরিচালক এবং সেরা প্রধান অভিনেত্রীসহ চারটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন- রিকিতা নন্দিনী শিমু, নভেরা রহমান, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভিন পারু, মায়াবী রহমান প্রমুখ।

ছায়াবৃক্ষ (২০২৪)
 
দেশের একটি অঞ্চলের চা-শ্রমিকদের জীবনযাপনের নানা দিক কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে এ সিনেমা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমাটি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে বেশ কয়েকজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরা কাজ করেছেন। সিনেমটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন বন্ধন বিশ্বাস। এতে অভিনয় করেছেন নিরব হোসেন, অপু বিশ্বাস, কাজী নওশাবা আহমেদ, সুমিত সেনগুপ্ত, মাহমুদুল হাসান মিঠু, শতাব্দী ওয়াদুদ, সুস্মি রহমান, ইকবাল আহমেদ প্রমুখ। সিনেমাটি বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে চা-শ্রমিকদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। 

দ্য বাইসাইকেল থিফস (১৯৪৮)
 
সিনেমাটি ইউরোপের নিউ ওয়েভের অন্যতম দৃষ্টান্ত। ফ্যান্টাসির বাইরে গিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমা হিসেবে রয়েছে এর আলাদা কদর। গরীবের জীবনের ক্ষুদ্র সংকটও কতটা গভীর হতে পারে- তার এত জীবন্ত রূপ এর আগে সিনেমায় খুব একটা দেখা যায়নি। বিশ্বজুড়ে ফিল্ম স্কুলগুলোতে পাঠ্য করা হয়েছে সিনেমাটি। রোম শহরে এক দরিদ্র শ্রমিকের বাইসাইকেল চুরি হয়ে যায়, যা তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। সে ও তার ছোট ছেলে সেই বাইসাইকেল খুঁজতে শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। এভাবেই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ভিট্টোরিও ডি সিকা। 

মডার্ন টাইমস (১৯৩৬)
 
শিল্প বিপ্লবোত্তর সময়ের এক শ্রমিকের যান্ত্রিকতা, চাকরির চাপ ও সমাজের পুঁজিবাদী কাঠামোর সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প উঠে এসেছে পুরো সিনেমায়। এটি একই সঙ্গে হাস্যরসাত্মক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তীক্ষ্ণ একটি সিনেমা। সিনেমায় চ্যাপলিন যান্ত্রিক সমাজে শ্রমিকের অবস্থা ও আত্মসংকটকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন চার্লি চ্যাপলিন এবং এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি।