ফরিদপুরে পাটকলের এক নারী শ্রমিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে পুলিশ ঐ নারির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত নারীর নাম ময়না বেগম (৩৫)। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের মাঝিকান্দিপাড়ার ইউনুচ শেখের মেয়ে।
জানা গেছে, ১৫ বছর আগে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ময়নার। তবে কলহের জেরে দুই মাসের মাথায় তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ময়না বিয়ে করেন একই উপজেলার পরমেশ্বরদী গ্রামের শামীম হোসেনকে। এই সংসারে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে হয়। দুই বছর আগে শামীম মারা গেলে তিনি পাটকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন।
গত রোববার ময়না চুয়াডাঙ্গার জামাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিষয়টি জানতে পারে সাবেক স্বামী শরিফুল পরদিনই ময়নার বাড়িতে এসে তাঁকে হুমকি দিয়ে নতুন স্বামীকে তালাক দিতে বলেন। এতে ময়না রাজি হননি।
নিহত ময়নার ভাই একরাম হোসেন জানান, গত বুধবার সকালে বাড়িতে এসে ময়নাকে তুলে নেন শরিফুলসহ তার লোকজন। পরে নির্যাতনের ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান শরিফুল। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে রাতে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান। তখন পালিয়ে যান শরিফুল।
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, নিহত ময়নার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।