পাকিস্তানে ভারতের হামলা নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা কে এই সোফিয়া

পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলার পর বুধবার (৭ মে) গণমাধ্যমকে নয়াদিল্লির পক্ষে বিস্তারিত জানানোর জন্য দুই নারী অফিসারকে হাজির হতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন কর্নেল সোফিয়া কুরাইশি। তাকে নিয়ে দেশটিতে বেশ আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির প্রাথমিক বিবৃতির পর 'কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল' তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কর্নেল সোফিয়া এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। মূলত এরপর থেকেই সোফিয়াকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়।

হিন্দুস্তান টাইমের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯৯ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর 'সিগন্যাল কর্পসে' যোগদান করেন সোফিয়া। এরপর ২০১৬ সালে বহুজাতিক সামরিক মহড়ার নেতৃত্বদানকারী প্রথম নারী অফিসার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

১৯৭৪ সালে গুজরাটের ভদোদরার এক সামরিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সোফিয়া ১৯৯৭ সালে দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। গুজরাট সরকারের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার দাদাও সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

সোফিয়া ২০১৬ সালে আসিয়ান প্লাস বহুজাতিক সামরিক অনুশীলন 'ফোর্স ১৮'-এ অংশগ্রহণকারী ১৮টি দেশের মধ্যে একমাত্র নারী কমান্ডার ছিলেন বলেও হিন্দুস্তান টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সংসদে হামলার পর পাঞ্জাব 'সীমান্তে পরিচালিত অপারেশন কার্যক্রমের সময়' কর্নেল সোফিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, তার অবদান কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ২০০৬ সাল থেকে ছয় বছরের জন্য কঙ্গোতে দায়িত্ব পালন করেছেন।