সারিয়াকান্দির ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ

বাঙালী নদীর উপর নির্মিত মাছিরপাড়া ব্রিজের নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজটির পাইল ক্যাপ বের হয়ে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঐ ব্রিজটি দক্ষিণ সারিয়াকান্দিও ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। 

মাছিরপাড়া গ্রামের স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের কারণেই খুঁড়ে গিয়ে পাইল ক্যাপ বের হয়ে পড়ে এবং ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাঙালী নদী খনন প্রকল্প কাজ চলমান রয়েছে। 

তবে নদী খনন কাজের ঠিকাদাররা জানান, ব্রিজের নিচে কাটিং বা খনন কাজ এখনো শুরু করা হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে অত্যাধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ঐ পিসি গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১৫ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ(এলজিইডি)। দক্ষিণ সারিয়াকান্দির কর্নিবাড়ি, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কামালপুর ও বোইল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই ব্রিজের উপর দিয়ে বগুড়া শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত কওে থাকে। ব্রিজের উভয় পাড়ে ৮/১০টি হাটবাজার, ১৫/২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েয়েছে। অজপাড়া গ্রাম মাছির পাড়ায় বাঙালী নদীর উপর ব্রিজটি নির্মাণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন যাবত ব্রিজের গোড়া থেকে বালু তোলা হচ্ছে। গুরুত্ব এই ব্রিজটি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাড. নুরে-আজম বাবু বলেন, শুধু মাছিরপাড়া নয় জোরগাছা ব্রিজের নিকট থেকেও বালু তোলা হচ্ছে । কিন্তু দেখার কেউ নেই। অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, বালু উত্তোলনের সময় ব্রিজের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য ঠিকাদারদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

বড়ড়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুছ বিশ্বাস বলেন, আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি কী করা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আমার মতামত দেওয়া ঠিক হবে না। তবে আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।