ছেলেধরা সন্দেহে এক বৃদ্ধাসহ দুইজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পৃথক পৃথক সময়ে আড়াইহাজার ও পাবনার চাটমোহরে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে ডেস্ক রিপোর্ট।
আড়াইহাজার: ছেলেধরা সন্দেহে (৬৫) বছর বয়সের এক বৃদ্ধা মহিলাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সদর পৌরসভার মসজিদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, সকালে ওই মহিলাকে উপজেলা পরিষদ মসজিদের আশপাশে ঘুরতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারলাম, সে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা করতে ওই এলাকায় গিয়ে ছিল। মহিলার নাম রাবেয়া বেগম। গোপালদী পৌর সভার মোল্লার চর গ্রামে তার বাড়ি।
এদিকে ছেলেধরা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আড়াইহাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।
চাটমোহর: পাবনার চাটমোহরে ছেলে ধরা সন্দেহে যুবককে আটক করে এলাকাবাসী মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটককৃত যুবক হলেন জেলার ঈশ্বরদী আমবাগানের ফরিদুল ইসলামের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫)। শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম দীঘিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের দিকে রাসেল একটি বস্তা নিয়ে বনগ্রাম দীঘিপাড়ায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এসময় ওই পাড়ার নায়েব আলীর স্ত্রী মুক্তি খাতুন দেখতে পান তার ৩ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে ওই যুবক আদর করছিলেন। ওই গৃহবধূ তা দেখেই ছেলেধরা বলে চিৎকার করতে থাকেন। আশপাশের লোকজন এসে রাসেলকে আটক করে মারধর করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
থানার ওসি শেখ মো. নাসীর উদ্দিন জানান, আটক রাসেল টোকাই। নেশাও করে। সন্দেহজনকভাবে তাকে আটকে মারপিট করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ