জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের মাধ্যমে মধ্যরাতে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সারা দেশে কলম বিরতি পালন করছেন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এনবিআরের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব কর অঞ্চল ও কাস্টমস হাউসে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ মে বৃহস্পতিবার ও ১৭ মে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একইভাবে কলম বিরতি পালিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং বাজেট প্রণয়নের কাজ এই কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ মে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সামনে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ কলম বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, গত ১২ মে রাতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত না নিয়ে, গোপনীয়তা রক্ষা করে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। তারা একে ‘মধ্যরাতের অধ্যাদেশ’ বলে অভিহিত করেন।
এদিকে কলম বিরতির পাশাপাশি বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন ও বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব ও ট্রেজারারসহ একাধিক শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, এনবিআর স্বার্থবিরোধী এ অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদেই তারা পদত্যাগ করেছেন।
‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও টেকসই সংস্কারের দাবিতে এই কলম বিরতি একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। তারা বলেন, ‘৫৩ বছরের পুরোনো রাজস্ব সংস্থা এনবিআর বিলুপ্ত করে একরাতেই গেজেট প্রকাশ করা হলো, অথচ সংস্কার কমিটির সুপারিশ, স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের মতামত কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
সংগঠনটির দাবি, ‘সংস্কারের নামে কার এজেন্ডা বাস্তবায়িত হলো? সংস্কার কমিটি নিজেই বলছে, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। তাহলে এত গোপনীয়তা কেন?’
অতিরিক্ত কমিশনার (কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট) সাধন কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আমরা চাই, সরকারের গঠিত সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ হোক। সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সংস্কার হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তির নয়, এটি কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের সম্মিলিত প্রয়াস। সারা দেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।’
উপ-কর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহীও জানিয়েছেন, সারা দেশে কলম বিরতি পালন চলছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তারা কর্মস্থলে এলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন। বাজেট প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করলেও অন্য প্রায় সব ফ্লোর ছিল ফাঁকা। করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের আনাগোনাও ছিল কম।