মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত মঙ্গলবারই মালয়েশিয়ায় পৌঁছান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আজ মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের সঙ্গে বৈঠক করবেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।


বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার দিকে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওংয়ের সঙ্গেও একই বিষয়ে আসিফ নজরুলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠক দুটি শ্রমবাজার বিষয়ে হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গত বুধবার বিমানবন্দরে তিনি এটি নিশ্চিত করেন। তবে শ্রমবাজার কবে চালু হচ্ছে এবং সিন্ডিকেট থাকবে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই বৈঠকের পরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা নাও আসতে পারে। আগামী ২১ ও ২২ মে ঢাকায় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের পরই শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে শ্রমবাজার চালুর আগেই ফের সিন্ডিকেট করার পাঁয়তারা করছে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৫৪৯) স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক মহাসচিব  রুহুল আমিন স্বপন এবং মালয়েশিয়ার আইটি কম্পানি বেসটিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতোশ্রি আমিন নুরের সিন্ডিকেট।


মালয়েশিয়ার সূত্রে জানা যায়, দুই থেকে তিন মাস আগে সিঙ্গাপুরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে এ বিষয়ে স্বপন-আমিন সিন্ডিকেটের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২২ সালের সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বছরের ৩১ মের পর থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর কর্মী যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আর হয়নি।

২০০৮ সালে বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আট বছর পর তা চালু হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে ফের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।

২০২২ সালের আগস্টে দেশটিতে আবারও বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া শুরু হয়। এরপর গত বছরের ১ জুন থেকে কর্মী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি।