কারো ‘ডাস্টবিন’ হবে না ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো দূষিত বা বর্জ্য তাদের কাছে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে। যেসব দেশের কাছে এসব ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটির নেওয়া এ উদ্যোগকে একটি ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাকার্তা সরাসরি বলে দিয়েছে তারা উন্নত দেশগুলোর ‘ডাস্টবিন’ হতে নারাজ।

ইন্দোনেশিয়ার কাস্টমস ডাইরেক্টরেট জেনারেলের বরাত দিয়ে একটি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, দূষিত পণ্যবাহী ৫৭টি কন্টেইনার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও হংকংয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কারণ বিষাক্ত পণ্য আমদানির বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ায় যে আইন রয়েছে এক্ষেত্রে দেশগুলো সেটি ভঙ্গ করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে ব্যবহূত ডায়াপার, প্লাস্টিক ও অন্যসামগ্রীও রয়েছে। এছাড়া ইস্ট জাভার তানজুম পেরাক পোর্টের কাস্টমস প্রধান বাসুকি সুরায়াস্তো বলেছেন, এর বাইরে আরো আটটি কন্টেইনার অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যার মোট ডজন ২২০ টন। কারণ ওগুলোতে যে বিষাক্তসামগ্রী রয়েছে সে কথা আগে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘গৃহস্থালি আবর্জনা দিয়ে ভরে যেসব কন্টেইনার পাঠানো হয়েছে সেগুলো আমরা যে দেশ থেকে এসেছে সেই দেশে ফিরিয়ে দিতে চাই। আবর্জনার মধ্যে আছে ব্যবহূত ক্যান, প্লাস্টিকের বোতল, ব্যবহূত ইলেকট্রিক পণ্য, প্যাকেজিং, বেবি ডায়াপার ও ব্যবহূত স্যান্ডেল।’

উল্লেখ্য, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য আমদানি করা ইন্দোনেশিয়ায় ফৌজদার অপরাধ বিবেচিত হয়ে থাকে। এর জন্য ১২ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১২ বিলিয়ন রুপিয়া (সাড়ে ৮ লাখ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এসব বর্জ্যের মধ্যে বড় অংশ দখল করে আছে প্লাস্টিক। ২০১৭ সালে চীন প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর ইন্দোনেশিয়া হয়ে উঠেছে উন্নত দেশগুলোর বর্জ্য রপ্তানির অন্যতম গন্তব্য। চীনের দুয়ার বন্ধ হওয়ায় অন্যান্য দেশের ওপর এখন বিশাল চাপ পড়েছে। জাতিসংঘের ব্যবহূত এক তথ্যে দেখা গেছে ২০৩০ সালের মধ্যে ১১০ মিলিয়ন প্লাস্টিক বর্জ্য অন্যান্য দেশকে হয় গ্রহণ করতে হবে অথবা সাগরে ফেলে দিতে হবে। চীনের এ সিদ্ধান্ত বিশ্বে রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। মে মাসে মালয়েশিয়া বলেছিল তারা কিছু বর্জ্যবাহী কন্টেইনার অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত পাঠাবে।