ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে কর্ণাটকে। শুধু রাজ্য দখলই নয়, এর পেছনে রয়েছে ইজ্জতের প্রশ্ন। বিজেপির কাছে দক্ষিণ ভারতে নিজেদের অস্তিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। আর জাতীয় কংগ্রেসের কাছে অস্তিত্ব বাঁচানোর। একই সঙ্গে বিরোধীদের এক জোট করার। এই লড়াই বল ঘুরছে সুপ্রিম কোর্ট আর কর্ণাটকের রাজ্যপালের দুয়ারে।
একদিকে কর্ণাটকে জাতীয় কংগ্রেস-জনতা দল (সিকিউলার) জোট সরকারকে ফেলে মুখ্যমন্ত্রী পদের দখল নিতে মরিয়া বিজেপি। অন্যদিকে কংগ্রেস চাইছে রাজনৈতিক কৌশলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে নরেন্দ্র মোদির সরকার কর্ণাটকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে বাধ্য হয়। এটা হলে মানুষের সহানুভূতিও আসবে। সুবিধা হবে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে। বিজেপি বিরোধী রাজনীতিকে শেষ করার চেষ্টা করছে এই হাওয়া তুলে কংগ্রেস সকলকে এক জোট করার সুযোগ পাবে।
গত বছরই ২২৪ আসন বিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভায় বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে জাতীয় কংগ্রেস-জনতা দল (সিকিউলার) জোট। তারা পায় ১১৭ আসন। অন্যদিকে বিজেপি পায় ১০৫টি আসন। দুই স্বতন্ত্র বিধায়ক তাদের সমর্থন দেয়। চিত্রটা বদলায় সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই। ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি একাই পায় ২৫টি। এরপরই কর্ণাটকে ক্ষমতা ফিরে পেতে মরিয়া হয় বিজেপি। জাতীয় কংগ্রেসের ১৩ এবং জনতা দল (সিকিউলার) এর তিন এমএলএকে নিজেদের দিকে টেনে আনতে সক্ষম হয়। আর এতেই শুরু হয় দোলাচল। কর্ণাটকে সরকার সংখ্যালঘু হয়েছে, এই দাবিতে আস্থা ভোটের দাবি তোলে বিজেপি। বিধানসভায় আস্থা ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের সরকার পড়ে যাবে জেনেও এটাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে জাতীয় কংগ্রেস।
কিন্তু কেন কর্ণাটকে সরকার দখলে মরিয়া বিজেপি? ভারত জুড়ে অভাবনীয় সাফল্য পেলেও দক্ষিণ ভারতে বিজেপি তেমন ভাবে কখনোই দাঁত ফোটাতে পারেনি। ব্যতিক্রম কর্ণাটক। একমাত্র এখানেই অতীতে সরকার গড়ার পাশাপাশি লোকসভায়ও যথেষ্ট আসন পায় বিজেপি।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও একই চিত্র। সারা ভারতের সব রাজ্যে বিজেপির জয়জয়কার। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে সেভাবে প্রভাব নেই। কর্ণাটকে ২৮ আসনের মধ্যে ২৫টি আসন পেলেও কেরলে ২০ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ২৫ আসনের মধ্যে তারা কোনো আসন পায়নি। তামিলনাড়ুতে শাসকদল এআইডিএমকের সঙ্গে জোট করে লড়লেও ৩৯ আসনের মধ্যে একটিও আসন পায়নি তারা। তেলেঙ্গানায় ১৭টির মধ্যে ৪টি আসন পেয়েছে। তবে এই ৪টি আসনও কর্ণাটক লাগোয়া। এবং তেলেঙ্গানায় এবারই বিজেপি এত বেশি আসন পেয়েছে। এর আগে ১টির বেশি কখনো তারা আসন পায়নি। সেই অর্থে কর্ণাটক বিজেপির দক্ষিণ ভারতের প্রবেশ পথ বলা চলে। ফলে এখানে ক্ষমতার দখল না রাখলে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে না। আর তাই কর্ণাটকে সরকার গড়তে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তামিলনাড়ুতে বিজেপির শরিক দলের সরকার থাকলেও তা যথেষ্ট নড়বড়ে যায়গায় রয়েছে। এবং সেই সরকারে বিজেপির প্রভাব নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে হাতেগোনা যেকয়েকটি রাজ্যে কংগ্রেস বা তাদের জোটের সরকার রয়েছে, তার মধ্যে কর্ণাটক অন্যতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং পাঞ্জাবে জাতীয় কংগ্রেসের একক সরকার রয়েছে। কর্ণাটকে জোট সরকার। তাছাড়া দক্ষিণ ভারতে জাতীয় কংগ্রেসেরও একমাত্র কর্ণাটকেই সরকার রয়েছে। অন্য ৪ রাজ্যে আঞ্চলিক দল এবং সিপিএমের জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। কেরলে জাতীয় কংগ্রেসের শক্তি থাকলেও আপাতত তারা বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে। ফলে দক্ষিণ ভারতে অস্তিত্ব বজায় রাখতে বিজেপি, জাতীয় কংগ্রেস দুপক্ষের কাছেই কর্ণাটক এখন ইজ্জতের লড়াই। এ লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে, তা হয় তো জানা যাবে শিগগিরই।