আজ উচ্চ রক্তচাপ দিবস

ব্রেন হার্ট চোখ ও কিডনি নীরবে ধ্বংস করে দেয়

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যগত সমস্যা। স্ট্রোকের প্রধান কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ। আবার ডিমেনশিয়ান হয়, মানে ভুলে যায় মানুষ । তবে সচেতন হলে এই রোগ নিরাময়যোগ্য । আর অসচেতনতার কারণে অকালমৃত্যু পর্যন্ত ঘটায়। একই সঙ্গে ব্রেন, হার্ট, চোখ ও কিডনি ধ্বংস করে দেয়। বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি বাংলাদেশ নীরব মহামারির মধ্যে রয়েছে। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রতি চার জনের মধ্যে এক জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত । 

উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতা এবং অকালমৃত্যুর বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে এনসিডি লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না । বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সিরা উচ্চ রক্তচাপে বেশি আক্রান্ত হন । নিয়মিত প্রেশার মাপলে ধরা পড়ে। আর প্রেশারের রোগী হলে নিয়মিত ওষুধ খেলে স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব ।

আজ ১৭ মে বুধবার, বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস-২০২৫ পালিত হবে। ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের সদস্য হিসেবে 'হাইপারটেনশন কমিটি অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডশেন অব বাংলাদশে' ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১৭ মে দিবসটি পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও জনসচেতনতায় এ দিবসকে ঘিরে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন'। ডব্লিউএইচও এর গ্লোবাল রিপোর্ট অন হাইপারটেনশন ২০২৩-এর রিপোর্ট বলছে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেছে, যার ৫৪ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ ।


ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, প্রখ্যাত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ বলেন, স্ট্রোকের প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ । এই রোগ নিরাময়যোগ্য । একটু সচেতন হলে সহজে এই রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব ।

"ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী) বলেন, দেশে পৌনে ২ কোটি লোক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ।

১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রতি চার জনের মধ্যে এক জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বয়স ৫০- এর উপরে যারা, তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার ১২ ভাগ। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর উচ্চ রক্তচাপ দিবসটি পালন করে আসছেন । হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‍্যালি ও আলোচনা হবে।

৩০০ উপজেলায় হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এনজিও এর সহযোগিতায় আজ সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে । প্রেসার মাপবে বিনামূল্যে, ওষুধ সরকারিভাবে সাপ্লাই দেওয়া হবে। এতে মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়যোগ্য, নিয়মিত ওষুধ খেলে ভালো হয়ে যায়। তবে বেশির ভাগ মানুষ নিয়ম মানতে চান না। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, উচ্চ রক্তচাপের কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গ ব্রেন, হার্ট, চোখ ও কিডনি নষ্ট করে দেয়। তবে নিয়মিত প্রেসার মাপলে, ওষুধ খেলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরমর্শ দেন তিনি ।


কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ থেকে ২০ ভাগের কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। শুধু প্রস্রাব পরীক্ষা ও প্রেসার মাপলে বোঝা যায় উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা। কিন্তু এটা অনেকে করতে চায় না। খামখেয়ালিপনা করেন অনেকে। নিয়মিত ওষুধ খেলে সুস্থ থাকা যায় । অসচেনতার কারণে নীরবে কিডনি নষ্ট করে দেয় । অর্থাৎ নিরাময়যোগ্য রোগ । কিন্তু অবহেলায় কিডনি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।