২২ মণের সোহাগ বাবুকে ঘিরে সিরাজগঞ্জে হৈ-চৈ

প্রায় ২২ মণ ওজনের একটি গরু নিয়ে সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে সাড়া পড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বিশালাকার গরুটি একনজর দেখতে আসছেন অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ান জাতের এই গরুটি ঘিরে ওই এলাকায় হৈ-চৈ পড়েছে। গরুর মালিকও শখ করে তার নাম রেখেছে ‘সোহাগ বাবু’। 

গরুটির মালিক শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের উল্টাডাব গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ সাধু সরদার। কৃষকের শখের গরুটি দেখার জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সাধু সরদারের নিজ বাড়িতে শংকর জাতের একটি শাহীয়াল গাভী ষাড় বাছুর জন্ম দেয়। বাছুরটির আকার আকৃতি ও ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়ায় আদর করে তার নাম রাখা হয় সোহাগ বাবু। এরপর টানা ২ বছর ধরে ক্লান্তিহীনভাবে সাধু সরদার তার গরুটির যত্ন করে আসছেন। গরুটিকে খইল, ছোলা, ভুট্টা, মাসকালাই কিনে নিজ হাতেই খাওয়ানো হয়। আদর যত্নে গরুটির ওজন ও আকৃতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড়। গরুটির বয়স দুই বছর। তবে সম্প্রতি সময়ে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানিতে সোহাগ বাবুকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাধু সরদার।

সাধু সরদার বলেন, বাজারে গো-খাদ্য খর, ভুষি, খইল, ভুট্টা, মাসকালাই, ছোলার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাই সোহাগ বাবুকে রাখলে খরচ অনেক বাড়বে। এত খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ছেলেদের পরামর্শে এই বছর কোরবানির ঈদে সোহাগ বাবুকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাম হাকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। অনেক ক্রেতা এসেছেন, দরদামও করেছেন। গরুটির ওজন প্রায় ২২ মণ; উপযুক্ত দাম পেলে গরুটি বিক্রি করা হবে। 

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ জানান, গরুটি আর এক বছর রাখতে পারলে দাম দ্বিগুণ হতো। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে গরুটি বিক্রি করে দিচ্ছে। এতো বড় গরু এই এলাকায় নেই। প্রতিদিনই গরুটি দেখতে আসছেন অনেকেই।

সোহাগ বাবুকে দেখতে আসা আব্দুল আজিজ ও লিপি খাতুন বলেন, লোকমুখে গরুটির কথা শুনে আমরা দেখতে এসেছি। গ্রাম এলাকায় এতো বড় গরু আগে দেখিনি। এবারই প্রথম দেখলাম।