‘কখনো চাল কিনি না, সমর্থকরা দান করেন’, মন্তব্যের পর পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন জাপানের মন্ত্রী

চাল নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী টাকু ইতো। বুধবার (২১ মে) তিনি পদত্যাগ করেছেন।

দেশটির ঐতিহ্যবাহী প্রধান খাদ্য চাল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চালের রেকর্ড উচ্চমূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে জনগণ। এ অবস্থায় মন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি কখনো চাল কেনেন না, কারণ সমর্থকরা তাকে বিনামূল্যে চাল দেন।

গত সপ্তাহান্তে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইতো বলেন, 'নিজে কখনো চাল কিনিনি, কারণ আমার সমর্থকরা আমাকে এত বেশি দান করেন যে, আমি কার্যত তা বিক্রি করতে পারি।'

টাকু ইতো'র এই মন্তব্যকে অনেকেই অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে অসংলগ্ন বলে মনে করেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে। আগামী জুলাই মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ভুল মন্তব্য তাদের দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের ইতো বলেন, 'ভোক্তারা যখন ঊর্ধ্বমুখী চালের দামের সাথে লড়াই করছেন, তখন আমি অত্যন্ত অনুপযুক্ত মন্তব্য করেছি।'

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপান সরকার তাদের জরুরি মজুদ থেকে টন টন চাল বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এই পদক্ষেপে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। এ অবস্থায় কিছু সুপারমার্কেট সস্তায় আমদানি করা চাল বিক্রি শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবাও একজন প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জাপানের খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা জোরদার করতে চান বলে জানিয়েছেন। চলমান চাল সমস্যার পরিস্থিতি লক্ষ্য করে ইশিবা বলেন, তিনি মনে করেন চালের দাম বৃদ্ধি 'কোনো সাময়িক সমস্যা নয় বরং একটি কাঠামোগত সমস্যা।'

তিনি ভোক্তাদের অসুবিধা কমাতে এবং চাল নীতি সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।