গাজার নির্মম বাস্তবতা নিয়ে প্রতিবাদী ছবি বানালেন ইসরায়েলি পরিচালক

ইসরায়েলের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক নাদাভ ল্যাপিড তার নতুন ছবি "হ্যাঁ"–এর মাধ্যমে গাজার মানুষদের ওপর চলমান নির্যাতন ও তার দেশের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই ছবি দেখানো হয়েছে ২০২5 সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে।

ছবির গল্প একজন সংগীতশিল্পীকে নিয়ে, যাকে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত নতুন করে লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই নতুন গানে এমন ভাষা থাকে, যা ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলে। পরিচালক ল্যাপিড বলেছেন, এই গল্পের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, ইসরায়েলি সমাজ কীভাবে গাজায় যেসব ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে, তা দেখেও চোখ বন্ধ করে রাখছে। এসব চিত্র বর্তমান ইসরায়েলি সমাজের সংবেদনশীলতার অভাবকে ফুটিয়ে তোলে বলে মনে করেন পরিচালক।

তিনি বলেন, গাজায় মানুষ মারা যাচ্ছে, বোমা পড়ছে, শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে, কিন্তু অনেক ইসরায়েলি এসব দেখেও চুপ থাকে। কেউ কেউ আনন্দ করে, কেউ ফোনে খবর দেখে মুখে কোনো ভাব প্রকাশ করে না। এটা যেন এক ধরণের 'অন্ধত্ব'। সব দেখেও না দেখার ভান করা।

তিনি বলেন, আজকের ইসরায়েলি সমাজে শিল্পীদের কোনো মত প্রকাশের জায়গা নেই। যুদ্ধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো শিল্পীদের সহ্য করা হয় না। ছবিটি নির্মাণের সময়ও বহু প্রযুক্তিবিদ, অভিনেতা ও সমর্থক এতে কাজ করতে রাজি হননি। তবুও ফরাসি প্রযোজক এবং একটি ইসরায়েলি সরকারি ফান্ড চলচ্চিত্রটির পাশে দাঁড়ায়। ল্যাপিড মনে করেন, এই ধরনের ছবি সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ মানুষকে বাস্তবতা দেখানো দরকার। তিনি চান, তার দেশ যেন গাজার মানুষের কষ্ট বুঝতে শেখে, চোখ খুলে সত্যি দেখতে পারে। ছবিটি ইউরোপে মুক্তি পাবে সেপ্টেম্বরে, তবে ইসরায়েলের কোনো সিনেমা হলে এটি দেখানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তথ্যসূত্র: টিআরটি গ্লোবাল