দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উপস্থিতি বরাবরই কম। তবে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এবার ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লাহোর কালান্দার্স। দলটির শিরোপা অভিযানে রয়েছেন বাংলাদেশের তিন স্পিনিং অলরাউন্ডার—সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন।
রোববার (২৫ মে) লাহোরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হওয়া ম্যাচে কালান্দার্সের প্রতিপক্ষ কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, যারা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এবং পরপর সাতটি ম্যাচে জয় পেয়েছে।
তবে তিন বাংলাদেশির একসঙ্গে একাদশে সুযোগ পাওয়া এখনও হয়নি। রিশাদ হোসেন শুরু থেকেই দলে থাকলেও টুর্নামেন্ট স্থগিতের পর দেশে ফিরে যান এবং বাংলাদেশ দলের হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সিরিজ খেলে ফের যোগ দেন। অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে স্থগিত হওয়া প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরুর পর বদলি হিসেবে দলে যোগ দেন সাকিব ও মিরাজ।
মিরাজ এখনও পর্যন্ত কোনো ম্যাচ খেলেননি। এলিমিনেটর ও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও সুযোগ পাননি তিনি। বিদেশি লিগে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই অলরাউন্ডার এখনও পর্যন্ত বেঞ্চেই কাটিয়েছেন সময়।
অন্যদিকে, সাকিব তিনটি ম্যাচে মাঠে নামলেও নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেননি। প্রায় ছয় মাস পর মাঠে ফেরা এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে দুইবারই শূন্য রানে ফিরেছেন এবং বল হাতে এখনো উইকেটশূন্যই রয়ে গেছেন। বোলিং অ্যাকশন পরিবর্তনের পর এটাই ছিল তার প্রথম স্বীকৃত প্রতিযোগিতা। তবে ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে দল তার অভিজ্ঞতা ও অভাবনীয় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ওপর ভরসা রাখবে। এটি হবে সাকিবের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৬তম ফাইনাল—যার মধ্যে সাতটি ফাইনালে তিনি শিরোপা জিতেছেন।
সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। শুরুতে টানা তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির টুপি ‘ফজল মেহমুদ ক্যাপ’। এরপর কিছু ম্যাচ দলের কৌশলগত কারণে বাইরে থাকতে হলেও, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফেরার পর তিন উইকেট নিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। ফাইনালেও তার ওপরই থাকবে দলের স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব।
প্রতিপক্ষ কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। প্রাথমিক পর্বে শীর্ষে থেকে তারা সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ব্যাটিং লাইনআপে রয়েছে রাইলি রুশো, ফিন অ্যালেন, আভিশকা ফার্নান্দো ও দিনেশ চান্দিমালের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন ফাহিম আশরাফ। বল হাতে মোহাম্মদ আমির ও আবরার আহমেদ রয়েছেন দারুণ ছন্দে।
তবে লাহোর কালান্দার্সও কম শক্তিশালী নয়। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে ফাখার জামান, কুসাল পেরেরা, আব্দুল্লাহ শাফিক ও মোহাম্মদ নাঈমের মতো ব্যাটসম্যানরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বোলিংয়ে আফ্রিদির সঙ্গে রয়েছেন হারিস রউফ, জামান খান ও সালমান মির্জা—যারা শেষ দিকে এসে দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।
লাহোর কালান্দার্সের এটি চতুর্থ ফাইনাল। ২০২০ সালে প্রথমবার শিরোপা হারানোর পর টানা ২০২২ ও ২০২৩ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে, গ্ল্যাডিয়েটর্সও খেলছে চতুর্থ ফাইনাল, সর্বশেষ ২০১৯ সালে তারা শিরোপা জেতে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ আসরে তারা রানার্সআপ হয়েছিল।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পিএসএল মঞ্চে সাফল্য এবার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে কিনা—তার উত্তর মিলবে রোববার রাতে ফাইনালের মঞ্চেই।