দ্বিতীয় দিনে আরও ৩০৭ জন করে সেনা সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশ সম্মত হয়েছিল এক হাজার করে বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই চলছে এই বহুমুখী বন্দি ছাড়ার প্রক্রিয়া। খবর রয়টার্সের।
যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময়ের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এবং আশাবাদ জানিয়েছেন, এই বিনিময় প্রক্রিয়া হয়তো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দ্বার খুলে দিতে পারে।
শনিবার (২৪ মে) আলাদা বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্বিতীয় দফার বন্দি মুক্তির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, 'আগামীকাল আরও বড় কিছু আশা করছি। আমাদের লক্ষ্য—রাশিয়ার হাতে আটক থাকা প্রতিটি ইউক্রেনীয়কে ঘরে ফেরানো।'
রয়টার্স টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, বাস থেকে নামছেন মুক্তিপ্রাপ্ত ইউক্রেনীয় সেনারা। তাদের অনেকে কাঁধে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে আছেন। স্বজনেরা তাদের বরণ করে নিচ্ছেন উচ্ছ্বাস আর কান্নায়। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিজীবন কাটানো সেনাসদস্য দিমিত্র হাভ্রিলেঙ্কো বলেন, 'সত্যি বলতে আমি স্তম্ভিত। সময়টা ছিল ভয়ানক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ঠিক আছে।'
অনেক নারী, যাদের প্রিয়জন এখনও নিখোঁজ, মুক্তিপ্রাপ্তদের কাছে ছবি দেখিয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। তাদেরই একজন ইয়ানা বলেন, 'গত বছর কুর্স্ক অভিযানের পর থেকে আমার স্বামী নিখোঁজ। হয়তো কেউ তাকে চিনবে, কিছু তথ্য দিতে পারবে।'
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তিপ্রাপ্ত এক সেনা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী সেনা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। সেনাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে যেন তারা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এক মুক্তিপ্রাপ্ত সেনা বলেন, 'বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি আবার বাড়ি ফিরেছি।'
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মুক্তি পাওয়া রুশ সেনারা বাস থেকে নামছেন। কেউ কেউ রাশিয়ার জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রুশ সাম্রাজ্যের পতাকা নিয়ে ছবি তুলছেন।
এর আগের দিন, শুক্রবার প্রথম দফায় ৩৯০ জন করে বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল দুই দেশ। তাদের মধ্যে ১২০ জন করে বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। তখনই জানানো হয়েছিল, কয়েক ধাপে এই বন্দি বিনিময় চলবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শুক্রবার বলেন, বন্দি বিনিময়ের প্রক্রিয়া শেষ হলে রাশিয়া একটি শান্তিচুক্তির খসড়া ইউক্রেনকে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত থাকবে, যেখানে থাকবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথনির্দেশ।
তবে বন্দি বিনিময়ের এই মুহূর্তেও যুদ্ধ থেমে নেই। শনিবার বন্দি মুক্তির কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে ওঠে ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ মে তিন বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিল রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। ইস্তাম্বুলে হওয়া সেই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৎপর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। বন্দি বিনিময় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সেদিন দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে ট্রাম্প সেই ছোট অগ্রগতিকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।