গাজায় সমস্ত পদাতিক ও সাঁজোয়া ব্রিগেড মোতায়েন করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই গণহত্যার শিকার গাজা উপত্যকায় স্থল আক্রমণ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েল তাদের সমস্ত নিয়মিত পদাতিক এবং সাঁজোয়া ব্রিগেড মোতায়েন করেছে।

বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুসারে, টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় তীব্র লড়াইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাহিনীগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় নয়টি নিয়মিত পদাতিক এবং সাঁজোয়া ব্রিগেড গাজা উপত্যকায় মোতায়েন করেছে।

গত ৪ মে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজায় গণহত্যা সম্প্রসারণের জন্য 'গিডিওনের রথ' অভিযান অনুমোদন করে। ইহুদিবাদী সরকার পরে হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা ডেকে এটি বাস্তবায়ন শুরু করে। ১৮ মে ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে স্থল আক্রমণের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি শুরু করে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএন-এর মতে, নতুন এই 'অভিযান' কয়েক মাস স্থায়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর গাজাসহ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গাজার লোকজনকে দক্ষিণের অঞ্চলগুলোতে সম্পূর্ণভাবে স্থানান্তর করা হবে। দখল করা সব স্থানে সেনাবাহিনী থেকে যাবে।

যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার বিরুদ্ধে এক নৃশংস আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে ৫৩,৯০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অঞ্চলটিতে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।