সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি

নারীরা বিশ্বজুড়ে সহিংসতার অন্যতম শিকার, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তারা। 

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় কর্মশালার আয়োজনে সহায়তা করেছে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব উইমেন পিসবিল্ডার্স (জিএনডব্লিউপি)। ‘বাংলাদেশে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার স্থানীয়করণের অগ্রগতি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন বিএনপিএস-এর পরিচালক শাহনাজ সুমী। 

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর মার্কোস ডেভিস, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্ল্যানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং অ্যানালিস্ট তানিয়া শারমিন, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সম্পাদক ও অতিরিক্ত ডিআইজি শাহালা পারভীন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সীমা মোসলেম, জিএনডব্লি উপির ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি পরিচালক জেসমিন নারিয়ো গালাস প্রমুখ।

মার্কোস ডেভিস বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর রেজুলেশনের আলোকে বাংলাদেশে গৃহীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কেয়া খান বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখনও অবহিত নন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযাত্রী হিসেবে দেখতে হবে।

জেসমিন নারিয়ো গালাস বলেন, পুরুষরাই এখনও পরিবারের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বজুড়ে ১৩২৫ নম্বর রেজুলেশনের গ্রহণ করেছে ১০৯টি দেশ, বাংলাদেশ এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণে কাজ করছে।

শাহালা পারভীন বলেন, নারীরা আজ সাইবার সহিংসতার মুখোমুখি। বাংলাদেশ পুলিশ সাইবার ইউনিট গঠন করেছে এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, বিদ্যালয় এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি।

মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবন্ধকতা এখনও রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি বিভাগগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি প্রয়োজন।

তানিয়া শারমিন বলেন, কোভিড-১৯ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। স্থানীয় কমিটির সুপারিশগুলো পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক হবে বলে।

সীমা মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত না করলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। আইন ও নীতিমালা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসছে না।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে শাহনাজ সুমী বলেন, নারীরা বর্তমানে সমাজে যে সংকটে রয়েছে, তার নিরসনে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মেয়াদ ২০২৫-এ শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় কর্মশালাটিতে বাংলাদেশের চার জেলার আটটি উপজেলার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে আছেন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ শিক্ষার্থীরা।