ট্রাকে চড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে মুখপোড়া হনুমান

নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি মুখপোড়া হনুমান নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে গুরুদাসপুরের ব্যস্ত শহরে ঘুরাফেরা করছে হনুমানটি। আশপাশে বনাঞ্চল না থাকায় স্থানীয়দের ধারণা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচলকারী কোনো সবজিবাহী কিংবা অন্যকোনো পণ্যবাহী ট্রাকে করে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে হনুমানটি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হনুমানটিকে দেখা যাচ্ছে। সেটি কখনও গাছে, কখনও টিনের চালে চলাফেরা করছেন। স্থানীয় লোকজন হনুমানটিকে খাবার খেতে দিচ্ছে। তবে উৎসুক মানুষের উপস্থিতিতে অনেক সময় বিরক্তও হচ্ছে হনুমানটি। সবশেষ সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম সড়ক ঘেঁষা ডাকবাংলোর সিমানা প্রাচীরের ওপর দেখা হনুমানটিকে দেখা গেছে।  

চা বিক্রেতা সিরাজ শাহ ইত্তেফাককে জানান, শনিবার থেকেই হনুমানটি ডাকবাংলোর গাছে আশ্রয় নেয়। ক্ষুধা লাগলে নেমে আসছে সড়কে। হনুমানটি কয়েক দিন এখানে অবস্থান করায় উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে বানর, আবার কেউ কেউ উল্লুকও মনে করছে। অনেকই আবার আলু, ভাত, কলা খেতে দিচ্ছেন। তবে শিশু আর কৌতূহলী মানুষের চিৎকার চেঁচামেচিতে হনুমানটি বিরক্ত হয়ে ছুটাছুটিও করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাণিজ্যিক শহর চাঁচকৈড় থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। খাবার খেতে গিয়ে ফল কিংবা সবজির ট্রাকে উঠে হনুমানটি দেশের কোনো এক বন থেকে এখানে আসতে পারে। হনুমানটিকে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিলেই ভালো হয়।’

রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মৌতুসী সুলতানা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় স্থান পাওয়াদের মধ্যে একটি কালোমুখো হনুমান। এরা দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করা শান্ত প্রকুতির প্রাণি।’

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা হনুমানের কোনো ক্ষতি বা বিরক্ত না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। হনুমানটি লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ ইত্তেফাককে বলেন, ‘খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঘুরছে কালোমুখো হনুমানটি। দ্রুত এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের ফলে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা কঠিন হলেও স্থানীয়দের সহায়তায় এটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেবেন তিনি।’