পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ আরইবির ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও বৈষম্যমুক্ত করাসহ ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে সমিতির সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে এ কর্মবিরতি শুরু করে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা। এর আগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত ৮০ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা৷ দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন তারা। এছাড়া নতুন সংযোগ প্রদান, অফিসিয়াল কর্যক্রম থেকে বিরত থাকবে তারা। প্রশাসনিক কোনো কাজে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) সহায়তা করবে না পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।
জানা যায়, সারাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)। দীর্ঘদিন ধরে সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন এসব সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ২১ মে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণার পর পাঁচ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। গ্রাহকসেবা অব্যাহত রেখেই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিগুলো হলো-
১. পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের ফ্যাসিবাদি কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীলকারী, অত্যাচারী আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ।
২. এক ও অভিন্ন চাকুরিবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পরিস একীভূতকরণ অথবা দেশের অন্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক এবং পৌষা কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ।
৪. মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল।
৫. গ্রাহক সেবার স্বার্থে লাইনক্রুসহ সকল হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মীদের অবিলম্বে পদায়ন।
৬. জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা/শিফটিং ডিউটি বাস্তবায়নের জন্য অতিদ্রুত জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
৭. পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।