দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ধীরে ধীরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
দেশটির আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাগর হয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এর প্রভাবে দুই রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সঙ্গে বজ্রপাত ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা।
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা—এই চারটি উপকূলবর্তী জেলায় ইতিমধ্যেই কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দল এলাকাগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করছে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে।
গভীর নিম্নচাপের কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। বহু এলাকায় বাঁশ ও মাটির তৈরি বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে। অন্যান্য বাঁধগুলিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসন টহল ও সহায়তা প্রদানের জন্য সক্রিয় রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু উপকূলবর্তী জেলা নয়, রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ জেলাতেই প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা রাজ্যের বহু অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্কতা মেনে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।