নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ সহ উপকূলীয় চরাঞ্চল শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে পুনরায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সকালে পানি কমতে শুরু করলে ও দুপুরে পুনরায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিঝুম দ্বীপে কয়েক শত পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগপূর্ণ হওয়ার কারণে নিঝুম দ্বীপে দিনভর ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে নিঝুম দ্বীপের প্রধান রাস্তাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বেড়ীবাঁধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। এতে করে ক্ষেতের ফসল ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া এখনো হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল তিন-চার ফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। দমকা বাতাসে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। নলচিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নদীর প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে হাতিয়ার দ্বীপের কয়েকটি বেড়ীবাঁধ (তীর রক্ষা বাঁধ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হুমকির মুখে রয়েছে। বড় ধরনের ঢেউয়ের আঘাতে এসব বিধ্বস্ত বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
এদিকে ঝড়ো বাতাস ও সাগর উত্তাল থাকায় তৃতীয় দিনের মত হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে করে জেলা শহর মাইজদিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শনিবারের (৩১ মে) অনার্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য হাতিয়ার ২৪০ জনের অধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নির্ঝর দাস নামের এক পরীক্ষার্থী হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় শনিবারের পরীক্ষায় আমাদের অংশগ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঝড়ের কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাতিয়ার মেঘনা মোহনায় রড় সিমেন্ট টিন ও মুদি মালামাল বোঝাই একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, আবহাওয়ার তিন নং সতর্ক সংকেত বলবত থাকায় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।