বগুড়ার শেরপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধেঁ ভাঙন, আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ

বগুড়ার শেরপুরে বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফলে স্থানীয় বিনোদপুরসহ অন্তত বিশটি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনরাত যাপন করছেন এসব গ্রামসহ নদীপাড়ের মানুষ।

নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া বাঁধটি রবিবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা খাতুন, শেরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির, সুঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, আ.লীগ নেতা আবু তালেব আকন্দ, সুঘাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান জিন্নাহসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ  অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন ও এমপি হাবিবর রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি মেরামত ও সংস্কারের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৮ মামলার আসামি নিহত

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সাহেববাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাংশ (সাড়ে চারশ মিটার) বাঙালি নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়া যে হারে পানি বাড়ছে, তাতে যে কোন সময় ক্ষতিগ্রস্ত এই বাঁধটি ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এই বাঁধটি ভেঙে গেলে উপজেলার সুঘাট, সীমাবাড়ী, বিশালপুর, ভবানীপুরের একাংশসহ তাড়াশ, রায়গঞ্জ উপজেলাসহ সিরাজগঞ্জের বিশাল এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। নষ্ট হয়ে যাবে হাজার হাজার বিঘা জমির রকমারি ফসল।

সুঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জানান,  কয়েকদিন ধরেই বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে করে সাহেববাড়ি ও মইশনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কার করা প্রয়োজন। নইলে যে কোন সময় এই বাঁধটি ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। বাসা-বাড়ি তলিয়ে যাবে। অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই চেয়ারম্যান।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান,  বাঁধের একাংশ বাঙালি নদীগর্ভে ধসে গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এই বাঁধটি এলজিইডি নির্মাণ করেছিল। তাদের দপ্তরের নয়। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত এই বাঁধটি দু-একদিনের মধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই শঙ্কার কোন কারণ নেই।

ইত্তেফাক/এমআরএম