সড়কের মাটি খুড়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ 

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা থেকে মইশহাটি ২ কিলোমিটার এই সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রায় এক বছর আগে বক্স কাটেন ঠিকাদার। কিন্তু পাকাকরণের কাজ শুরু না করেই নিরুদ্দেশ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা ১৫টি গ্রামের মানুষ।

গৌরীপুরের সঙ্গে নেত্রকোনা সদর উপজেলার যোগাযোগের সংযোগ রাস্তা এটি। তিন মাস আগে এই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ, এমনটি দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. সারোয়ার জাহান জানান, আমার কাছ থেকে এক ঠিকাদার কাজটি নিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তার নামে মামলা হওয়ায় তিনি এখন বাড়ি ছাড়া। এজন্য সমস্যা হয়েছে। বিল না পাওয়ায়, ঠিকাদারের টাকা নেই তাই কাজ করাতে পারছেন না বলে জানান তিনি। 

গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী অসিতবরণ দেব জানান, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কাজটি সম্পন্ন করেননি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিডির (এমআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় উল্লিখিত এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২ কোটি ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৬ শ টাকা চুক্তিমূলে কাজ পান নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর এলাকার ঠিকাদার মো. সারোয়ার জাহান। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার রাস্তার বক্স কেটে রেখে কাজ শেষ না করেই নিখোঁজ হয়ে যান। 

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাঁচাসড়কটির বেহাল দশা হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যান চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহণের অভাবে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না কৃষকরা। বিপাকে পড়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধসহ হাসপাতালমুখি রোগীরা। জমে থাকা পানি আর কাঁদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় এক বছর পূর্বে সড়কের মাটি খুড়ে বক্স কেটে অর্ধেক রাস্তায় কাদা-মিশ্রিত বালু ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর এই রাস্তায় আর কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি। ঠিকাদার বা তাদের লোকজনেরও কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।