কুমিল্লা ০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম আর নেই। অসুস্থতাজনিত কারণে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর এভোরকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল (৭৮) বছর।
তিনি স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দলমত নির্বিশেষে তিনি এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সংসদীয় আসনের হাজার হাজার শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে দলমত নির্বিশেষে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন নিজ সংসদীয় আসনসহ বিভিন্ন এলাকার লাখো মানুষ। জানাজায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের কান্নায় যেন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ যেন স্বজন হারানোর কান্না। একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতি কর্মীদের এমন শ্রদ্ধা, এলাকার মানুষের ভালোবাসা থাকতে পারে কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম তার অনন্য উদাহরণ।
২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে কুমিল্লা ০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ঐ আসন থেকে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে তিনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ঐ সংসদীয় আসনে আর্তসামাজিক ও জনকল্যাণে ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুতে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তার ১ম জানাজা রাজধানীর মহাখালিস্থ নিউ ডিওএইচএস মাঠে, ২য় জানাজা নয়াপল্টন বিএনপি অফিস প্রাঙ্গনে, ৩য় জানাজা লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ৪র্থ জানাজা মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ও সবশেষে মনোহরগঞ্জের বাইশগাঁও ইউনিয়নস্থ শরিফপুর নিজ গ্রামে তার ৫ম জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।