চিনির বিকল্প...

ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে চিনিকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্য সচেতন হতে গিয়ে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চিনির মিষ্টতা থেকে। চিনি নিয়ে দ্বিধা আর প্রশ্নের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে মিষ্টির স্বাদ। এমন দ্বিধা আর প্রশ্নের সমাধান হতে পারে ‘চিনিগো’। ভাবছেন চিনিগো কী? স্টিভিয়া গাছের পাতা থেকে সংগৃহীত নির্যাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চিনিগো। স্টিভিয়া কী? স্টিভিয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের একটি ভেষজ উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই খাবার ও পানীয়তে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে স্টিভিয়া। স্টিভিয়া এক্সট্রাক্ট বা রিবিয়ানা নামেও পরিচিত সেখানে। এর মিষ্টতার পেছনে মূল উপাদান হলো বিভিন্ন ধরনের স্টিভিওল গ্লাইকোসাইড (প্রধানত স্টেভিওসাইড ও রিবডিওসাইট)। এসব উপাদানের কারণে স্টিভিয়া সাধারণ চিনির চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি মিষ্টি, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় এর কোনোধরনের প্রভাব নেই। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদান, কোনোভাবেই কৃত্রিম নয়। বাংলাদেশের বাজারে চিনিগো নিয়ে এসেছে পূর্ণাভা লিমিটেড। আর যাঁরা চিনিকে বলছেন ‘না’, তাঁরা আসলে বিকল্প হিসেবে কী খাচ্ছেন, তাও দেখা প্রয়োজন। তাঁরা মূলত চিনির বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন আর্টিফিশিয়াল সুইটনার। ওজন কমানো, সেই সঙ্গে সুস্থ থাকার আপ্রাণ চেষ্টায় চা-কফি তো বটেই, খাদ্যতালিকা থেকে চিনিকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে। তারা হয়তো ভাবছেন এটা ক্ষতির কারণ হবে না, যতটা চিনিতে হয়! কিন্তু আসলেই কি তাই? উত্তর শুনে নিরাশ হতে পারেন কিন্তু! আসলে কথা হলো কাজের কাজ না হয়ে বরং আপনার ওজনও বেশ খানিকটা বেড়ে যেতে পারে এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারে! অনেক ডায়েটিশিয়ানও এটা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে খাবারে বা চা-কফিতে সামান্য চিনি খেলে তত ক্ষতি হয় না, যতটা লম্বা সময় ধরে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করলে হতে পারে। তবে যাঁরা দিনে অন্তত ৫-৭ কাপ চা-কফি পান করেন, তাঁরা ধীরে ধীরে চিনির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন, প্রথমদিকে অসুবিধে হলেও পরে দেখবেন চিনিহীন চা-কফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সুস্থ থাকতে যদি চিনিকে ছাড়তেই হয় তবে চিনির বিকল্প হতে পারে ‘চিনিগো’।