নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা 

একদিন দুপুরের বিরতিতে সহকর্মী মেহেদী হাসান এর সাথে বসে চা খাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিজীবী ফাহাদ চৌধুরী। কথায় কথায় উঠে এলো তাদের অফিসের এক সিনিয়র সহকর্মীর কথা যিনি সম্প্রতি অবসরে গেছেন, কিন্তু এখন নানা আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। মাস শেষে হাতে কিছুই থাকে না, চিকিৎসা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজন মেটানোই দায় হয়ে পড়েছে তার জন্য। 

মেহেদীর কণ্ঠে ছিল দুশ্চিন্তা, সরকারি চাকরিজীবীরা তো অবসরের পর পেনশন পায়, আমরা তো ওসব পাবো না। কথাটি ফাহাদের মনেও নাড়া দেয়। তখনই মনে হলো, যদি আগে থেকেই কোন ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা করার মাধ্যমে মাসে মাসে অল্প কিছু সঞ্চয় করে একটা পেনশন প্ল্যান শুরু করা যেত, তাহলে হয়তো এমন অনিশ্চয়তা এড়ানো সম্ভব হতো। 

ফাহাদ চৌধুরীর এবং মেহেদী হাসানের মত এমন অনেক মানুষের জন্যই বর্তমান সময়ে আর্থিক নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে, অর্থনীতি অস্থিরতা আর চাকরির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত—এমন বাস্তবতায় ভবিষ্যতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া এখন জরুরি। এক্ষেত্রে পেনশন প্ল্যান হতে পারে একটি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে এখনো বেশি ভাগ মানুষই পেনশন প্ল্যান নিয়ে চিন্তা শুরু করেন যখন অবসর প্রায় ঘনিয়ে আসে। 

বাস্তবে, পেনশন– এর জন্য প্ল্যান শুরু করা উচিত কর্মজীবনের শুরুতেই। কর্মজীবনের শুরুতে বয়সে মাসিক ইনকামের স্বল্প পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে তা একটি বড় সঞ্চয়ে পরিণত হতে পারে। 
আমরা অনেকেই পেনশন বলতে শুধু মাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা হিসেবে মনে করি, কিন্তু বাস্তবে তা ভিন্ন।

সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী, যে কেউ চাইলেই তার অবসর জীবনের সুরক্ষার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা নিজেই করতে পারে। এবং এই পেনশন প্ল্যানের জন্য তাদের সহযোগিতা করতে পারে  দেশের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি গুলো। গার্ডিয়ান, মেটলাইফ, প্রগতি লাইফ এবং ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কোনো ব্যক্তি সহজেই এই প্ল্যানে অংশ নিতে পারেন। অবসর শুরুর পর থেকে গ্রাহক জীবিত থাকা পর্যন্ত প্রতিমাসে পেনশন পেতে থাকবেন। এমনকি, গ্রাহকের মৃত্যুর পর নমিনি (স্ত্রী/স্বামী) চাইলে আজীবন পেনশন গ্রহণ করতে পারবেন অথবা পেনশনের টাকা এককালীন তুলে নিতে পারেন। এধরনের বিভিন্ন পেনশন প্ল্যান সকল পেশাজীবীদের আগামীর জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

পেনশন কেবল বয়স্কদের জীবিকা নির্বাহের একটি উপায় নয়, বরং এটি একজন মানুষের জীবনের শেষপ্রান্তে আত্মসম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার একটি অন্যতম মাধ্যম। অনেক সময় দেখা যায়, অবসর গ্রহণের পর সেই ব্যক্তি হঠাৎ করেই আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন, ফলে তাকে সন্তানসন্ততির ওপর নির্ভর হয়ে পড়তে হয়। এটি যেমন তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটায়, তেমনি পারিবারিক সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি তৈরি করতে পারে। 

তাই বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উচিত এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পর্যায়ে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদেরও পেনশন ও অন্যান্য সঞ্চয়ের উপায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লেখকঃ কমিউনিকেশনস প্রফেশনাল