ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে নৌপথে যাত্রা করেছেন জলবায়ু আন্দোলনের আন্তর্জাতিক মুখ গ্রেটা থুনবার্গ। ইতালির একটি বন্দর থেকে ‘ম্যাডলিন’ নামের একটি পালতোলা নৌকায় রোববার রওনা দেন তিনি ও আরও ১২ জন কর্মী। তাদের লক্ষ্য,অবরুদ্ধ গাজায় প্রতীকী সাহায্য পৌঁছানো এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ জানানো।
তবে এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে কড়া বার্তা। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে অভিযানে নামবে। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি, তবে তার মন্তব্যে ২০১০ সালের 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' অভিযানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তুরস্কের একটি সহায়তাবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা করেছিলো ইসরায়েলি বাহিনী।
গ্রেটার এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ এর উদ্যোগে। সংগঠনটি এই যাত্রাকে বর্ণনা করেছে এক ধরনের অহিংস প্রতিবাদ ও সরাসরি মানবিক সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে। যাত্রাপথে তাদের সঙ্গে রয়েছে খাদ্যসামগ্রী।
গ্রেটা থুনবার্গ জানিয়েছেন, তারা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন, তবু তিনি মনে করেন, চেষ্টাই মানবতার একমাত্র ভরসা। ‘আমরা জানি পরিস্থিতি কঠিন। কিন্তু চেষ্টা না করলে মানবতা রক্ষা করা সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি। বর্তমানে নৌকাটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থান করছে।
এই যাত্রার পেছনে রয়েছে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়। মার্চ মাসে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ইসরায়েল তিন মাসের কঠোর অবরোধ আরোপ করে, যা খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইতিমধ্যে ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্স ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং তা না মানলে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। ব্রিটেন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক একাত্মতার বার্তা দিতেই এগিয়ে এসেছেন গ্রেটা থুনবার্গ ও তাঁর দল।