চাঁদা না পেয়ে মাহিন্দ্র চালককে মারধর, দুই বিএনপি নেতা আটক 

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে দরিদ্র গাড়ী চালককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। 

মঙ্গলবার (৩ জুন) গভীর রাতে উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের জটিয়ারপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে মাহিন্দ্র চালক রাঙ্গা মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও পূর্ব জটিয়ারপাড়া এলাকার মুন্নাফের ছেলে গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ ও বিএনপির কর্মী তার সহযোগী একই এলাকার মৃত সুরুজ মণ্ডলের ছেলে সোলাইমান হোসেন সুলাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গা মিয়া পেশায় একজন মাহিদ্রা গাড়ীর চালক সে পূর্ব জটিয়ারপাড়া এলাকার মমিনুর ইসলামের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলো। এবং এখানে থেকে সে ভাড়া নিয়ে একটি মাহিদ্র গাড়ী চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে স্থানীয় বিএনপির নেতা জিন্নাহ ও তার সহযোগী বিএনপি কর্মী সোলাইমান তার কাছে মাসিক হিসাবে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে তাকে হত্যা করে গুমসহ তার গাড়ী জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। সে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩১ মে রাতে মাহিন্দ্র গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জিন্না ও সোলাইমান হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রাঙ্গা মিয়াকে গুরুত্বর আহত করে। স্থানীয়রা আহত রাঙ্গা মিয়াকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।  এ ঘটনায় রাঙ্গা মিয়া মাদারগঞ্জ সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর বুধবার ভোররাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জটিয়ারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আল মামুন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনকে সেনাবাহিনী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রাঙ্গা মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।