আবারও ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২৫

গাজা শহরে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর ফের গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে তথাকথিত নেটজারিম করিডোরের কাছে অবস্থিত একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার।

এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তরে আল-কারারা শহরের পাশে আল-মাওয়াসি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এক শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নাসের হাসপাতালের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র।

ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় এই দুই মন্ত্রী ব্রিটেনে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখানে তাদের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘চরম আপত্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা বলেছে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ অগ্রহণযোগ্য।

এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ হাজার ৯৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২০ জন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকেই গাজায় ব্যাপক আকারে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিকভাবে এই আগ্রাসনকে গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।