রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০২৪ সালে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। এর আগের বছরগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের শীর্ষে ছিল সিরিয়া ও ইরান।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বুধবার জানিয়েছেন, আশ্রয়প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ও হোটেলভিত্তিক ব্যয়বহুল থাকার ব্যবস্থা বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে লেবার সরকার। এসব পদক্ষেপের ফলে বছরে আনুমানিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে জানান তিনি।
রিভস বলেন, 'আজকের বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে আশ্রয় আবেদনের জট কমানো, আরও বেশি সংখ্যক আপিল শুনানি সম্পন্ন করা এবং যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধতা না থাকা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।'
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার ফলে কয়েক হাজার আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
লেবার পার্টি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এরইমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, যেখানে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর গড়ে ২৭ হাজার ৫০০ জন আশ্রয়ের আবেদন করতেন। অথচ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার ২০০ জনে—যা প্রায় তিনগুণ।
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে ১৩টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে, যেখানে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৫টি।
২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের মধ্যে ১১ শতাংশই ছিলেন আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থী। ২০১৯ সালে এই হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।
এছাড়া, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রবণতাও সম্প্রতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালের আগে এই রুটে তেমন চলাচল না থাকলেও বর্তমানে এটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে।