স্রোতে ভেঙে পড়লো ২২০ ফুটের সাঁকো, বিপাকে আট গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া নদীর ওপর ২২০ ফিট লম্বা বাঁশের সাঁকো ঘিরে বিপাকে পড়েছেন আট গ্রামের মানুষ। সম্প্রতি স্রোতের তোড়ে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এরপর নিজেদের অর্থায়নে সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গ্রামবাসী। তবে মাঝপথে অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সাঁকোর পুনর্নির্মাণ কাজ।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সময়ে বাঁশের সাঁকোটি স্রোতে ভেঙে পড়ে। এরপর এটি নির্মাণে দুপাড়ের বাসিন্দারা কাজ শুরু করেন। তবে গত দুদিন ধরে অর্থ সংকটের কারণে পুনর্নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এই সাঁকোর ওপর চলফেরা করেন উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাঁউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হকবাজার এবং পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাহাট ইউনিয়নের চরখারুয়া এবং খারুয়াসহ ৮ গ্রামের হাজারো মানুষ। বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নারী, শিশু ও বয়স্করা। আশপাশের গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল হক ও মাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে  বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়ে দুপাড়ের বাসিন্দারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহ আগে নির্মাণ কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন অর্থের অভাবে তিন থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দুপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে কমপক্ষে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে নিয়ে আবারও কাজ শুরু করবো।

কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার ঝাঁউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান, বাঁশের সাঁকো নির্মাণের কাজ বন্ধ হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এই সাঁকোটি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।  

কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল হক জানান, নদীর তীব্র স্রোতে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার আমাদের পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এরপর কোথাও কোনো সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য দুপাড়ের বাসিন্দারা মিলে বাঁশ সংগ্রহ করে ভাঙা সাঁকোটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। তবে অর্থের অভাবে দুই দিন থেকে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের কাজ বন্ধ। এখন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে হাজারও মানুষ।  

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা জানান, বাঁশের সাঁকো পুননির্মাণের জন্য বর্তমান কোনো বরাদ্দ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।