কক্সবাজারের রামুতে জমি ও বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ও ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাত ও হামলায় নিহত হয়েছে বাড়ির মেজ ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের জেটির রাস্তা রেলবিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান।
নিহত শওকত হোসেন (২৩) কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মৃত হামিদ হোসেনের মেজ ছেলে।
ঘাতক দুই ভাই হলেন, কাউসার ওসমান (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (২১)। তারা নিহত শওকতের আপন সহোদর। তাদের বাড়ি রামুর রশিদনগর ও সদরের ভারুয়াখালী সীমান্তের আদর্শগ্রাম হওয়ায় তারা রশিদনগর জেটিরাস্তা এলাকার বাসিন্দার মতো যাতায়াত।
ওসি তৈয়বুর জানান, নিহত ও আঘাতকারীগণ আপন ভাই। ভিকটিম শওকত মায়ের সঙ্গে বাস করে। খরচ যোগাতে কক্সবাজারে টাইলসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো। ভিকটিমের দুই ভাই সাইফুল ও কাউসার তাদের নতুন বাড়িতে আলাদাভাবে বাস করে। ভিকটিমের দুই ভাইয়ের নতুন বাড়ির দখল নিয়ে পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে রামুর রশিদ নগর ইউনিয়ন আদর্শ গ্রাম রেলবিট রেল লাইনের পাশে শামসুর চা দোকানে শওকতকে অতর্কিত হামলা চালায় অপর দুভাই সাইফুল ও কাউসার।
ওসি আরও জানান, তারা শওকতকে টেনেহিচড়ে রেল লাইনের পাশে নিয়ে সাইফুলের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ভিকটিমের বুকে, পিঠে, হাতে এবং মাথায় একাধিক স্টেপ করে। বড় ভাই কাউসার হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে শওকতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী দুভাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। শওকতকে উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ছেলের মরদেহ দেখতে এসে মা রেহেনা বেগম জানান, জমির দখল নিয়ে দুই ছেলের বউয়ের উস্কানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সকালে কাজে যেতে বের হয়ে দোকানে পান খেতে গেলে আমার মেঝ ছেলেকে তার বড় ও ছোট ভাই অতর্কিত হামলা করে মেরে ফেলেছে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসায় তাদের আপন মামা আবদুল গফুরকেও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তাকেও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।