ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় নতুন করে রক্তাক্ত হলো গাজা। ২৪ ঘণ্টায় এই অবরুদ্ধ উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনে।
শুক্রবার (২৭ জুন) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও রয়টার্স জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নতুন করে নিহত হয়েছেন বহু বেসামরিক মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছেছে ১০৩টি মরদেহ এবং ২১৯ জন আহত ব্যক্তি।
তবে বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বহু মৃতদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে অথবা খোলা রাস্তায় পড়ে আছে, যেগুলোর কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতেই পারছেন না লাগাতার হামলার কারণে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় পরিচালিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর আশপাশে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৬৬ জন।
মানবিক সংকট মোকাবেলায় যখন মানুষ সাহায্যের জন্য ভিড় করছেন, ঠিক তখনই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোকেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল পুনরায় গাজায় হামলা শুরু করে, যা ভেঙে দেয় জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি। এরপর থেকে নতুন দফায় নিহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৯৩৬ জন এবং আহত হয়েছেন ২০ হাজার ৪১৭ জন।
গাজার ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োআভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা এখনো থামেনি। প্রতিদিনই বাড়ছে নিহত ও আহতের সংখ্যা। ত্রাণ নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ জানালেও বাস্তবে সংকট নিরসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।